
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 August 2024 17:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আর মেরেকেটে দেড়মাস। প্রস্তুতি চলছিল পুরোদমেই। তবে আরজি কর কাণ্ড নিঃসন্দেহে তাতে ছন্দপতন ঘটিয়েছে। এখন শুধুই নিজেদের মতো করে এই ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন মানুষ। সরে নেই যৌনকর্মীরাও। প্রতিবাদের অন্য রাস্তা বেছে নিলেন তাঁরা। খড়ের কাঠামোয় যৌনপল্লীর মাটি দিয়ে তবেই দেবী দুর্গার মৃন্ময়ী রূপ ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু করেন শিল্পীরা। এটাই প্রচলিত রীতি। কিন্তু এবার সেই মাটি তাঁরা দেবেন না বলে জানিয়ে দিলেন যৌনপল্লীর বাসিন্দারা।
বহুদিন ধরেই যৌন পেশাকে শ্রমের তালিকায় আনার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন যৌনকর্মীরা। আদালত তাঁদের পেশাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু সমাজের চোখে এখনও সেই সম্মান পাননি। তাই গত কয়েক বছর ধরে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণের সময় মাটি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এবার সেই বর্জনে যুক্ত হল আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও।
পুরাণ মতে, ঋষি বিশ্বামিত্র যখন ইন্দ্রত্ব লাভের জন্য তপস্যা করছিলেন, তাঁর ধ্যান ভাঙাতে উঠেপড়ে লাগেন ইন্দ্র। স্বর্গের অপ্সরা মেনকাকে তিনি ঋষির ধ্যানভঙ্গের জন্য পাঠান। অপ্সরার নাচে বিশ্বামিত্রের ধ্যান ভাঙে। রাজর্ষির ধ্যান ভাঙানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। ইন্দ্র নিজে তা পারেননি। অথচ এক অপ্সরা অবলীলায় সেই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেন। অকালে মহামায়া মোট ন’টি রূপে পূজিতা হন। নবম কন্যা হলেন ‘যৌনপল্লী’র প্রতিনিধি। শেষ পুজোটি তাঁরাই পান। এভাবেই সারাবছর সমাজে কোণঠাসা মানবীকে দেবীবন্দনায় স্বীকৃতি দেয় সমাজ।
আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সামিল গোটা দেশ। সমাজের মূল ধারায় আগাগোড়া ব্রাত্য থাকা সোনাগাছির যৌনপল্লী তাতে সামিল হল এবারও মাটি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে। এভাবেই আরজি করের নির্যাতিতার জন্য বিচার চাইল তারা। ১৪ অগস্ট মেয়েদের রাত দখলে কলেজ স্ট্রিটের জমায়েতে মোমবাতি, মশাল হাতে সামিল হয়েছিলেন তাঁরা। ‘বিচার চাই’ স্লোগানও দেন। তাঁদের দাবি ৩৬৫ দিন যেন নারীরা সুরক্ষিত থাকেন সেটা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি সমাজে যৌনকর্মীদেরও সম্মান দিতে হবে।