
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো কল সেন্টার (Fake Call Centre) খুলে বিদেশিদের সঙ্গে প্রতারণা (Cyber Fraud)। কলকাতা থেকে গ্রেফতার ২১ জন! লেকটাউনের (Laketown) একটি অফিসে হানা দিয়ে এদের পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছে থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক, পেন ড্রাইভ। পশ্চিমবঙ্গ সাইবার অপরাধ বিভাগ এই গ্রেফতারি করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই অফিস থেকে মূলত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ফোন করা হত। কথার জালে ফাঁসিয়ে তাঁদের থেকে নেওয়া হত বিপুল টাকা। এভাবেই চলত প্রতারণা। অনলাইন ট্রান্সফারের সুবিধা থাকায় অতি সহজেই টাকা হাতিয়ে নিতে পারত প্রতারকরা। তদন্তকারীদের কাছে খবর ছিল, লেকটাউন এলাকা থেকে সাইবার প্রতারণা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই অফিসে হানা দেয় তাঁরা।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সমীর নামের এক যুবক অসটেনিক্স সলিউশনস নামের এক সংস্থা খুলেছিলেন। আদতে এটিই ভুয়ো কল সেন্টার। সেখানে থেকেই অস্ট্রেলিয়া সহ নানা দেশে ফোন করাতেন তিনি। প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ারই ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কসের কর্মী সেজে কথা বলত। নানারকম ভুল তথ্য দিয়ে নাগরিকদের বোকা বানিয়ে টাকা লুট করত তাঁরা।
২০২২ সাল থেকে এই ভুয়ো কল সেন্টার চালাচ্ছেন সমীর নামের ওই ব্যক্তি। এত বছরে কাদের কাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে তাদের নাম সহ অন্যান্য তথ্যও নাকি রয়েছে তাঁর কাছে। যে ২১ জন গ্রেফতার হয়েছেন তারা ছাড়া আর কেউ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা সেটা জানার চেষ্টায় পুলিশ। কিন্তু এখন প্রশ্ন, এত বছর ধরে প্রতারণা করা হত কীভাবে?
পুলিশ জেনেছে, একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভুয়ো কল সেন্টারের প্রতিটি কম্পিউটারে ভার্চুয়াল মোবাইল ইন্সটল করা হত। তাতে থাকত বিদেশি আইপি অ্যাড্রেস। এরপর অস্ট্রেলিয়ার যে সমস্ত নাগরিক ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কসের গ্রাহক তাঁদের ফোন করা হত। বলা হত, অপটিক্যাল ফাইবার কানেকশন গ্রহণ না করলে মোবাইলের নেটওয়ার্ক আসবে না। এই কথা শুনে অনেকে টাকা দিয়ে সেই পরিষেবা নিতে চাইতেন। প্রতারকরা টাকা তো নিতেন, স্বাভাবিকভাবে পরিষেবা দিতেন না।
এদিকে সেক্টর ফাইভ, বাগুইআটিতে অভিযান চালিয়ে আরও একটি বেআইনি কল সেন্টারের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। সেই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ৬৭ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে। এই কল সেন্টার থেকেও বিদেশি নাগরিকদের ফোন করা হত টেক সাপোর্টের নাম করে। তারপর গিফট কার্ড বা বিট কয়েনের মাধ্যমে প্রতারকরা টাকা হাতাতো। এরপর তারা টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিত।