
আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার দেবাশিস হালদার
শেষ আপডেট: 11 October 2024 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনশন তুলতে জুনিয়র ডাক্তারদের দফায় দফায় চিঠি দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু কাজ হয়নি কোনও। ১০ দফা দাবিতে প্রতিবাদ চলছেই। চলছে সাত জন চিকিৎসকের আমরণ অনশনও। আজ অনশনের সপ্তম দিনে অনশনে বসা জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে অন্যতম স্নিগ্ধা হাজরার বাঁকুড়া বাড়িতে পৌঁছল পুলিশ।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন,স্নিগ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সেই চিন্তাতেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল পুলিশ। তবে পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকায়, দেখা হয়নি।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তার স্নিগ্ধার বিয়ে হয়েছে মাস ছয়েক আগেই। স্বামী দেবাশিস হালদারও এই আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা। তবে তিনি অনশন করেছেন না।
গতকাল, বৃহস্পতিবারই আরজি করের চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর পরেই স্নিগ্ধা ও বাকিদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তাই বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু কারও দেখা মেলেনি। ফোন করলে স্নিগ্ধার পরিবার জানায়, মেয়ে বড় হয়েছেন এবং বাড়িতে থাকেনও না। তাই মেয়ের সিদ্ধান্তে তাঁরা কিছু বলবেন না।
প্রতিবাদ মিছিল, বৈঠক, অবস্থানের পরে জুনিয়র ডাক্তাররা ধর্মতলায় আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে উঠে যেতে প্রত্যেক অনশনরত জুনিয়র ডাক্তারকে আলাদা ভাবে চিঠি দিয়েছে হেয়ার স্ট্রিট থানা। এর আগে ৫ অক্টোবর ধর্মতলায় অবস্থানরত জুনিয়র ডাক্তারদের মেল করে কলকাতা পুলিশ জানায়, পুজোর সময় ধর্মতলায় অবস্থানে বসলে সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এবার ফের মেল করে জুনিয়র ডাক্তারদের উঠে যেতে জানাল কলকাতা পুলিশ।
এসবের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আন্দলনের অন্যতম মুখ, দেবাশিস হালদার জানিয়েছেন, আজই নির্যাতিতার বাড়ির কাছের ধর্নায় জুনিয়র ডাক্তারদের একটি দল যাবে। নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সহমর্মিতা জানাবেন।
এছাড়াও 'বিচার চাই' স্লোগান দেওয়া ৯ জনকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার জন্য আজই জরুরি ভিত্তিতে হাইকোর্টের স্পেশাল বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে। সেখানে কী নির্দেশ আসে তাঁ ওপর ভিত্তি করে জুনিয়র ডাক্তাররা ওই ৯ জনের বাড়িতেও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিচার চেয়ে বাড়ির সামনে রাস্তায় ছবি এঁকে স্লোগান লেখার জেরে মার খেলেন যাদবপুরের এক প্রতিবাদী। জানা গেছে, বিজয়গড়ের বাসিন্দা জয়দীপ মজুমদার তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তায় চোখ এঁকেছিলেন এবং 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগান লিখেছিলেন। তা মুছতে বলার সটান 'না' বলে দেন জয়দীপ।
অভিযোগ, এতেই চিৎকার করতে থাকেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ও অনুগামীরা। আচমকাই জয়দীপের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন তাঁরা। অবশ্য তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের দাবি, মায়ের চোখের ওপর মানুষ হেঁটে যাবে, তার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। বুকে ব্যাপক আঘাত পাওয়ায় বাঘাযতীন হাসপাতালে যান ওই প্রতিবাদী। সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরে যাদবপুর থানাতেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।