ইস্তাহারে বিজেপির পুরনো ‘সোনার বাংলা’ (Sonar Bangla) স্লোগান খুঁজে না পেয়ে বিদ্রূপ করার পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ এবং দিল্লির গোপন আস্তানায় থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) প্রসঙ্গ তুলে শাহকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ।

অমিত শাহ, শেখ হাসিনা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 April 2026 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউ টাউনের এক হোটেলে যখন বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ঠিক তার পরই তৃণমূল ভবন থেকে পাল্টা তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisek Banerjee)। ইস্তাহারে বিজেপির পুরনো ‘সোনার বাংলা’ (Sonar Bangla) স্লোগান খুঁজে না পেয়ে বিদ্রূপ করার পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ এবং দিল্লির গোপন আস্তানায় থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) প্রসঙ্গ তুলে শাহকে নজিরবিহীন আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ।
‘সোনার বাংলা’ কি হয়ে গেল?
এ দিন শাহের সংকল্পপত্র প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, "এবার আর সোনার বাংলা কথাটা শুনলাম না। তারা হয়তো ধরে নিয়েছে যে বাংলা সোনার বাংলা হয়ে গেছে।" তাঁর কটাক্ষ, গত কয়েক বছর ধরে যে স্লোগান বিজেপিকে তাতিয়ে রাখত, এবার ইস্তাহারে সেই কথার অনুপস্থিতিই বলে দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাসের অভাব।
ভোটার তালিকা ও হিন্দু বাঙালি বঞ্চনা
রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শাহের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অভিষেক। তিনি বলেন, "আমি আশা করেছিলাম গত ছয় মাস ধরে এসআইআর-এর নামে নির্বাচন কমিশন বাংলার বুকে যা করেছে তার জন্য তিনি ক্ষমা চেয়ে তারপর কথা শুরু করবেন।" এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তাঁর দাবি, "সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম তারা বাদ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ নাম হিন্দু বাঙালির। অসমেও তারা এটা করেছে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে বাংলায় কথা বলবে তাকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে।"
দিল্লি-গুজরাত শাসন বনাম হাসিনার প্রসঙ্গ
বাংলার শাসন দিল্লি বা গুজরাতের অঙ্গুলিহেলনে চলবে কি না, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাহকে পাল্টা আক্রমণ করেন অভিষেক। প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ তত্ত্বকে বিঁধতে গিয়ে তিনি টেনে আনেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার নাম। অভিষেক বলেন, "তিনি আজকে কার্যত স্বীকার করেছেন যে তাঁরা যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে বাংলা দিল্লি ও গুজরাত থেকে চলবে। দিল্লিতে শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে কী করছে। শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কি! তিনি অনুপ্রবেশকারী না শরনার্থী!"
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন হাসিনা। বর্তমানে দিল্লিতে তিনি ঠিক কোন পরিচয়ে বা কোন স্ট্যাটাসে রয়েছেন, তা নিয়ে কেন্দ্রের নীরবতাকেই এ দিন হাতিয়ার করেছেন তৃণমূলের সেনাপতি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যখন তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে, তখন এ দেশে তাঁর অবস্থান নিয়ে শাহের ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অভিষেক।