
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 3 October 2024 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনাকে মাথায় রেখে এবছরের পুজোয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করার কথা ঘোষণা করল সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটি। তার পরিবর্তে এলাকার কয়েক হাজার মা-বোনেদের হাতের জ্বলন্ত প্রদীপ শিখায় মাকে আবাহন করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার, সন্ধ্যে ৭টা থেকে ৯টা এই প্রদীপ জ্বালানোর অনুষ্ঠান হবে এবং মায়ের কাছে প্রার্থনা করা হবে, যাতে পশ্চিমবঙ্গে অভয়া-নির্ভয়াদের পুনরাবৃত্তি না হয়।
বস্তুত, গেরুয়া শিবিরের নেতা সজল ঘোষের পুজো বলে খ্যাত সন্তোষ মিত্র স্কোরারের আয়োজন নিয়ে প্রতি বছরই আগাম কৌতূহল থাকে। গত বছর এখানেই করা হয়েছিল রামমন্দির। পুজো উদ্বোধনে এসেছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এবারেও জাঁকজমকের প্রস্তুতি ভালই ছিল। জানা গেছিল, আমেরিকার লাস ভেগাস শহরের বিখ্যাত স্ফিয়ারের অনুকরণে আলোর গোলক থিমে সাজবে মণ্ডপ।
কিন্তু এ বছর পুজোর আগে বদলে যায় শহরের পরিস্থিতি। আৎজি কর কাণ্ডে নৃশংস ধর্ষণ-খুনের প্রতিবাদে রব ওঠে বিচার চেয়ে। বিতর্ক তৈরি হয় 'উৎসব' নিয়েও। প্রশ্ন ওঠে, শাসক-বিরোধী শিবিরের পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার কি তাহলে উৎসবে মাতবে?
৩০ সেপ্টেম্বর পুজোর উদ্বোধনের দিন দেখা যায়, মায়ের আগমনে প্রতিবাদের ছবি। চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে সন্ধ্যা দখল করেন এলাকার মহিলারা। ঢাকের বাদ্যির সঙ্গেই বেজে ওঠে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' দাবি।
তবে এই পুজো নিয়ে এবছর আগে থেকেই পুলিশি সতর্কতার বাড়বাড়ন্ত ছিল। ১৮ জুলাই পুজো কমিটিকে দেওয়া নির্দেশে একগুচ্ছ শর্ত জারি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২০২২ সালে লেজার সাউন্ড লাইট শোয়ের জেরে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এমনটা যেন না হয়। মণ্ডপে প্রবেশ ও বাহিরের পথে কোথাও যেন কোনও স্টল না রাখতেও বলা হয় উদ্যোক্তাদের। গত বছর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় ১৪টি সিসিটিভি বসানো হয়েছিল। এবারে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬টি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভিড় সামলাতে পিক আওয়ারে কমপক্ষে ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং কম সময়ে ১০০ জন স্বেচ্ছা্সেবক রাখার কথা বলা হয়।
তবে পুজোর আগেই পরিস্থিতি বদলে গেছে, তাই প্রথমেই বাদ পড়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পুজোর ক'টা দিন কতটা উচ্চকিত হয় বিরোধী শিবিরের এই পুজোর আয়োজন, সেদিকেই এখন নজর সকলের।