
গ্রেফতার রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 3 October 2024 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁশদ্রোণীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে ২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে, এখনও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। গতকাল থেকে এখনও পর্যন্ত বাঁশদ্রোণী থানায় ধর্নায় বসে রয়েছেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সকালে গ্রেফতার হলেন তিনি।
বুধবার, মহালয়ার ভোরে বাঁশদ্রোণীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নবম শ্রেণির এক ছাত্রের। এলাকার রাস্তা সারাইয়ের জন্য আনা মাটি কাটার যন্ত্রের গাড়ি (জেসিবি) একটি গাছের সঙ্গে পিষে দেয় তাকে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয় কাউন্সিলর কেন ঘটনাস্থলে আসেননি, তা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাত পর্যন্ত সেই বিক্ষোভের আঁচ কমেনি।
এলাকায় এসে এই ঘটনার প্রতিবাদ শুরু করে বিজেপি। সেই সময়ই পুলিশ ধরপাকড় শুরু করলে বিজেপি নেত্রী রুবি মণ্ডল-সহ মোট পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে গ্রেফতারও করা হয় তাঁদের। এর প্রতিবাদে থানায় পৌঁছন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রুবি-সহ বাকিদের অকারণে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ধর্নায় বসেন তিনি।
আজ সকালে নিজেই গ্রেফতার হলেন রূপা। বাঁশদ্রোণী থানা চত্বর থেকেই পুলিশের গাড়িতে তোলা হয় রূপাকে। সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরা। বিজেপি নেত্রী অভিযোগ করেন, বাঁশদ্রোণী থানায় তাঁর ব্যাগ রয়ে গিয়েছে, নিতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে পুলিশ শৌচালয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশ অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করেছে। এদিন সকালে দেখা যায়, বাঁশদ্রোণী থানা চত্বরেই বসে রয়েছেন রূপা। তিনি রাতে একবার কথাও বলেন অফিসারের সঙ্গে, কিন্তু অভিযুক্তদের গ্রেফতারির ব্যাপারে কোনও সদর্থক উত্তর তিনি এখনও পাননি বলে জানিয়েছেন।
মহালয়ার সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার সময়ে জেসিবির ধাক্কায় ছাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে মানুষ নেমে আসেন রাস্তায়। বিক্ষোভ সামাল দিতে বাঁশদ্রোণী পুলিশ পৌঁছলে, পুলিশকে ঘিরেও শুরু হয় বিক্ষোভ। এরপর পাটুলি থানা থেকেও পুলিশ পৌঁছয়। দুটি থানার ওসিকেই ঘিরে ফেলে জনতা। দাবি ওঠে, ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিতা কর মজুমদারকে ঘটনাস্থলে আসতে হবে। তারপরেই অবরোধ তুলবেন তাঁরা। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রাস্তা ভাঙাচোরা। কিন্তু হেলদোল নেই পুরসভার।
বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক নবম শ্রেণির ছাত্র কোচিং সেন্টারে যাচ্ছিল। সেই সেন্টারের কাছে চলছিল রাস্তা সারাইয়ের কাজ। সেখানে থাকা এক জেসিবি ওই ছাত্রকে ধাক্কা মারে। পিষে দেয় গাছের সঙ্গে। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে ওই ছাত্রের। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাঁশদ্রোণী।
ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদের পাশাপাশি রাস্তার বেহাল দশা নিয়েও বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় দেখা মেলেনি স্থানীয় কাউন্সিলর অনিতা কর মজুমদারের। কাউন্সিলরকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও। এদিকে বাসিন্দাদের দাবি, তিনি থানায় বসে রয়েছেন, কিন্তু ঘটনাস্থলে আসছেন না।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল রাতেই বাঁশদ্রোণী থানায় পৌঁছে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। সেই সময়ই পুলিশ ধরপাকড় শুরু করলে রুবি মণ্ডল-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গেরুয়া শিবিরের দাবি, কোনও অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের কাউকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তা নিয়েও ক্ষোভ আরও বাড়ে।