
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 April 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Rituraj Hotel fire, Kolkata) জেরে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সন্ধেয় অগ্নিকাণ্ডের পরই আনন্দ পাসোয়ান নামে এক জন আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হোটেলের রুম থেকে পরে আরও ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দমবন্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪। এদের মধ্যে ২ জন শিশু, একজন মহিলা এবং ১১ জন পুরুষ। এদের মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা দমকল ও পুলিশ খতিয়ে দেখবে। এফআইআর হবে। ঘটনার তদন্ত হবে।” বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে ফরেনসিক দল। কীভাবে অগ্নিকাণ্ড তা খতিয়ে দেখবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলও (SIT)। ঘটনার পর থেকেই পলাতক হোটেলের মালিক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ছ'তলা হোটেলের প্রতিটি ফ্লোরে। আচমকা আগুনে হোটেলের ভিতরে আটকে পড়েন বহু আবাসিক। আতঙ্কিত মানুষজন মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বেলে জানলার পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। আতঙ্কে অনেকে ছাদেও উঠে যান। পরে দমকল বাহিনী হাইট্রোলিক ল্যাডার এনে তাঁদের উদ্ধার করে। উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাও। পুলিশ সূত্রের খবর, অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরই একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
স্থানীয় সূত্রের খবর, দমকল বাহিনী পৌঁছলেও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে হোটেলের ভেতর যেন অগ্নিপুরী। দীর্ঘক্ষণ হোটেলের ঘরে দমবন্ধ অবস্থায় আটকে থাকার জেরেই মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের কলকাতা মেডিক্যাল, এনআরএস এবং আরজি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে হোটেলের রুমগুলিতে ঢোকেন দমকলের কর্মীরা। এরপরই বিভিন্ন ফ্লোরের ঘর থেকে একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহগুলি আজ ময়নাতদন্ত হবে। গোটা ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। একই সঙ্গে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কীভাবে অগ্নিকাণ্ড, হোটেলে আদৌ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কিনা, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশার মনোজ ভার্মাও। তিনি জানান, পলাতক হোটেল মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বাকি বিষয়গুলিও।