
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 January 2025 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার শিয়ালদহ আদালত আরজি কর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা করবে। তার আগে আরও একবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলছেন, সঠিক তদন্ত হলে অন্তত ৫০ জন এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়। যারা তাঁদের মেয়ের সঙ্গে সেই রাতে শেষ পর্যন্ত ছিল, তারাও জড়িত থাকতে পারে।
গত শনিবার সঞ্জয় রায়কে আদালত দোষী সাব্যস্ত করলেও সম্পূর্ণ খুশি হতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলেছিলেন, ন্যায় বিচার এখনও পাওয়া বাকি। আর সোমবার সাজা ঘোষণার আগে তাঁরা যে দাবি করলেন তা আরও বেশি সাড়া ফেলল। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার রাতে তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে চারজন ছিলেন, তাঁরাও এই অপরাধে যুক্ত। যারা দোষী, তাদের সবাইকে ধরলে অন্তত ৫০ জন গ্রেফতার হবেন।
সঞ্জয় রায় রায়দানের দিন নিজের গলার রুদ্রাক্ষের মালা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের পাল্টা প্রশ্ন, ''আমার মেয়ে সেমিনার রুমে ঘুমাচ্ছে, ও কী করে জানল? কে পাঠাল ওকে? কিছুই বলেনি ও। আরও যারা জড়িত রয়েছে তারা তাহলে কি ছাড়া পেয়ে গেল?'' বাবা-মা জানাচ্ছেন, ঘটনার রাতে তাঁদের মেয়ের সঙ্গে চারজন ছিল। তদন্তেই তা উঠে এসেছে। তাহলে তাঁরা কিছুই জানে না, এটা হতে পারে না।
প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবা-মার দাবি ছিল, এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় দোষী হলেও একমাত্র জড়িত নন। আরও অনেকে রয়েছে। কিন্তু সিবিআই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমনকী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অখুশিও তাঁরা। শনিবার শিয়ালদহ আদালতের রায় শোনার পর তাঁদের বক্তব্য, অনেক প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। তার উত্তর তাঁরা পাননি। তাই মনে করেন, বিচার এখনও বাকি।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩ এর ৩ উপধারায় সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণ, ৬৬ ধাারায় ধর্ষণের সময় এমন আঘাত করা, যার জেরে মৃত্যু হতে পারে এবং ১০৩ এর ধারায় খুনের মামলা আনা হয়েছে। যার অর্থ সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। শিয়ালদহ আদালত আজ কী সাজা শোনায়, সেদিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য, দেশ।