আদালতে পৌঁছলেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা
শেষ আপডেট: 20 January 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র ১ ঘণ্টা। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে সাজা শোনানো হবে। সোমবার শিয়ালদহ আদালতে দোষী সিভিক ভলেন্টিয়ারকে সাজা শোনাবেন বিচারপতি অনির্বাণ দাস। ইতিমধ্যেই আদালতে পৌঁছে গিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা।
সোমবার সকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় সঞ্জয় রায়কে। আদালতের সামনে রয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা। দুপুর সাড়ে ১২টায় দোষীর শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত। তার প্রায় ২ ঘণ্টা আগে থেকেই আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে শিয়ালদহ আদালত চত্বর। ডিসি গৌরব লাল থেকে ইনস্পেক্টর এবং এসআই পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মীরাও রয়েছেন সেখানে।
গত শনিবার শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। বিচারক অনির্বাণ দাসের পর্যবেক্ষণ, গত বছরের ৯ অগস্ট ভোরে সঞ্জয় আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে ঢুকেছিলেন। এদিক সেদিক ঘোরাঘুরিও করেন। ওই মহিলা চিকিৎসককে তিনি আক্রমণ করেন, মুখ-গলা টিপে ধরেন। পরে ওই চিকিৎসক মারা যান।
রায় ঘোষণার দিন সঞ্জয়ের উদ্দেশে বিচারক এও বলেছিলেন, 'আপনাকে শাস্তি পেতেই হবে।' যদিও ১২ মিনিটের রায় ঘোষণায় দোষী সঞ্জয় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। রুদ্রাক্ষের মালার দোহাই দিয়ে বিচারককে জানান, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। যার নেপথ্যে রয়েছেন একজন আইপিএস অফিসারও। পাল্টা বিচারক দাস বলেন, সঞ্জয়ের সব কথা শোনা হবে সাজা ঘোষণার দিন, অর্থাৎ আজ, সোমবার।
অন্যদিকে, সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণার আগে আরও একবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলছেন, সঠিক তদন্ত হলে অন্তত ৫০ জন এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়। যারা তাঁদের মেয়ের সঙ্গে সেই রাতে শেষ পর্যন্ত ছিল, তারাও জড়িত থাকতে পারে।
প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবা-মার দাবি ছিল, এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় দোষী হলেও একমাত্র জড়িত নন। আরও অনেকে রয়েছে। কিন্তু সিবিআই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমনকী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অখুশিও তাঁরা। শনিবার শিয়ালদহ আদালতের রায় শোনার পর তাঁদের বক্তব্য, অনেক প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। তার উত্তর তাঁরা পাননি। তাই মনে করেন, বিচার এখনও বাকি।