
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 February 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি গেলেন আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Hospital Case) নিহত তরুণী-চিকিৎসকের বাবা-মা (Victim Parents)। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন আইনজীবী ও অন্যান্য প্রতিবাদী চিকিৎসকরাও। দিল্লি গিয়ে সিবিআই-এর ডিরেক্টরের (Director of CBI) সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। কারণ এই ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (CBI) ভূমিকায় তাঁরা সন্তুষ্ট নন।
আরজি কর মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের। কিন্তু সেই রায়ে খুশি হতে পারেননি নিহত চিকিৎসকের পরিবার। বাবা-মা প্রথম থেকেই বলে আসছেন, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িয়ে এবং তাঁদের আড়াল করা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ যে তদন্ত করেছিল তার থেকে এগোতেই পারেনি সিবিআই। অসন্তোষ প্রকাশ করেই সুবিচারের আশায় এবার দিল্লি গেলেন তাঁরা।
নিহত চিকিৎসকের মা-বাবা বলছেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। ঘটনার ৭ মাস হয়ে গেলেও এখনও ডেথ সার্টিফিকেট মেলেনি। এদিকে সিবিআই-এর ভূমিকাও সঠিক নয়। তদন্তে গাফিলতি নয়, বরং ইচ্ছে করে ঢিলেমি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। কিন্তু সময়ের অভাবে তা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি ভবন। এবার তাঁরা দিল্লি গিয়ে সিবিআই ডিরেক্টরের দেখা পান কিনা, সেটাই দেখার।
ক'দিন আগেই নির্যাতিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছিলেন, মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে গাড়ির কাগজের নাম ট্রান্সফার করতে গেলে ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে। কিন্তু পুরসভা এবং আরজি কর হাসপাতাল একে অপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পুরসভায় গেলে ওরা বলছে, আরজি করে যান, আর আরজি কর হাসপাতালে গেলে ওরা বলছে, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যাবে না! সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁরা বলেন, "ভাবুন! মেয়েকে তো চির জীবনের জন্য হারালামই! এমনকী মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট চাইতে গিয়েও হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে!"
গত বছরের ৮ অগস্ট গভীর রাতে আরজি কর হাসপাতালে খুন-ধর্ষণের শিকার হন দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি ছাত্রী। ঘটনার পর থেকেই একাধিক প্রশ্নে বিদ্ধ আরজিকর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে এদিন বড় প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা বলছেন, "ডেথ সার্টিফিকেট দিতেও ওরা ভয় পাচ্ছে কেন? কী আড়াল করতে চাইছে সরকার?" যদিও হাসপাতাল সূত্রে বলা হচ্ছে, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।