
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 March 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই তদন্ত (CBI) নিয়ে প্রথম থেকেই অখুশি আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা (RG Kar Case)। দোষী সাব্যস্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের যাবজ্জীবন সাজা হলেও তাঁরা মনে করেন, আসল অপরাধীরা এখনও ধরা পড়া বাকি। এই অভিযোগ নিয়েই সুবিচারের আশায় গত বৃহস্পতিবার দিল্লি (New Delhi) গেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। সিবিআই-এর ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তাঁদের। তাঁর সঙ্গে দেখা হলেও রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ পাননি কেউ।
'সময় নেই' বলে নির্যাতিতার বাবা-মার সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারেননি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন। এই বিষয়টি নিয়েও কার্যত ক্ষুব্ধ তাঁরা। নির্যাতিতার বাবা বলেছেন, 'রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়ে ইমেল করেছিলাম। উত্তরে জানানো হয় সময় নেই। খুব খারাপ লেগেছে।'
আরজি করের ঘটনায় যে আন্দোলন হয়েছিল তা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির উচিত ছিল নিজে ডেকে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। কিন্তু তিনি তা করেননি, উল্টে সাক্ষাতের সময় চাইলেও দেননি। তিনিও যে একজন ভারতীয় নাগরিক, এমনটা হয়তো মনে করেননি রাষ্ট্রপতি, বক্তব্য নির্যাতিতার বাবার।
এদিকে আরজি করের ঘটনার তদন্তে সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ডিরেক্টরকেই কার্যত অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তবে বিষয়টিতে কতটা লাভ হবে তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। কারণ পরে তাঁরা জানান, সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনে হয়েছে, তাঁকে স্পষ্টত বোঝানো হয়েছে যে সঞ্জয় রায়ই একমাত্র দোষী। যদিও তিনি সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
নির্যাতিতার বাবা-মা প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা বলেছেন সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে। এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে পরে নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন তিনি। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলেছি সিবিআই-এর গাফিলতির কথা। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা আনতেও যে সিবিআই-এর বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, সে কথাও জানিয়েছি।' যদিও দিল্লি গিয়ে এই সাক্ষাৎ করে আদতে কোনও লাভ হবে কিনা, তা এখনই বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা।
সিবিআই ডিরেক্টর, রাষ্ট্রপতি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। কিন্তু কারও দফতর থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ, সদিচ্ছার অভাবেই তাঁরা হয়তো দেখা করতে চাইছেন না তাঁদের সঙ্গে।