
সঞ্জয় রায়
শেষ আপডেট: 20 January 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সাজা ঘোষণা আরজি কর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের। সাড়ে ১২টার কিছু পর সেই মামলার শুনানি শুরু হয়। তবে এখনই সাজা ঘোষণা করলেন না শিয়ালদহ আদালতের বিচারক। তিনি জানান তাঁর সময় চাই। দুপুর পৌনে ৩টেয় সাজা ঘোষণা করতে পারেন তিনি।
সোমবার বিচারপতি অনির্বাণ দাস দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে বলেন, 'আপনার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ এসেছে, তা প্রমাণিত। আগেই তা আপনাকে বলেছিলাম, এর জন্য আপনার সর্বোচ্চ সাজা বা যাবজ্জীবন হতে পারে।' বিচারকের কথা শুনে সঞ্জয় ফের দাবি করে, 'আমাকে দিয়ে যেরকম ভাবে ইচ্ছা, যেখানে সেখানে সই করানো হয়েছে। আমার মেডিক্যাল করতে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।' সঞ্জয়ের কথা শেষ করতে দিয়ে বিচারক দাস বলেন, 'আমার বিচার্য বিষয় হচ্ছে যা যা এভিডেন্স এসেছে তার উপর ভিত্তি করে বিচার করা।'
মনে করা হচ্ছিল এরপরই সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক। কিন্তু তিনি তা না করে সময় চেয়ে নিয়েছেন। জানিয়েছেন, দুপুর ২.৪৫ নাগাদ ফের এজলাস বসবে। সেই সময়ে সাজা ঘোষণা করা হবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আগের মতো এদিনও সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এটি বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা। ডিউটিতে থাকা একজন মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ খুন করা হয়েছে। তাই অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত।
সঞ্জয় রায়ের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, 'মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প কিছু আছে কিনা, তা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হোক।' এখন এটাই দেখার বিচারক সাজা ঘোষণার সময়ে এই বিষয়টি মাথায় রেখে নির্দেশ দেন নাকি, সিবিআই-এর আর্জিতেই সাড়া দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন।
গত শনিবার যখন দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তখনও নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সঞ্জয় রায়। কথায় কথায় তুলে আনে রুদ্রাক্ষের মালার প্রসঙ্গ। বলতে থাকে, যদি সে কিছু করত, তাহলে সেই মালা ছিঁড়ে যেতে পারত। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে, এর নেপথ্যে একজন আইপিএস অফিসার রয়েছেন বলেও দাবি করে সঞ্জয়। সোমবার সাজা ঘোষণার আগেও একই ঢঙে কথা বলতে শোনা যায় আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে।
এদিকে আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মা মনে করছেন সঞ্জয় কিছুই জানাবে না। তাঁকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে কিছুই বলেনি। তাঁদের কথায়, আমাদের সামনেই সঞ্জয়কে ১০৪ টি প্রশ্ন করা হয়েছে। কিন্তু সঞ্জয় কোনটিরই সঠিক জবাব দেয়নি।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪, ৬৬ এবং ১০৩ এর ৩ উপধারায় সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারায় ধর্ষণ, ৬৬ ধারায় ধর্ষণের সময় এমন আঘাত করা, যার জেরে মৃত্যু হতে পারে এবং ১০৩ এর ধারায় খুনের মামলা আনা হয়েছে। যার অর্থ সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।