
সাংবাদিকদের মুখোমুখি নির্যাতিতার বাবা
শেষ আপডেট: 6 December 2024 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনিয়র ডাক্তারদের ডাকা মিছিলে সামিল হয়েছিলেন আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার বাবা-মা। মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তাঁরা ফের একবার প্রশাসন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে সিবিআই, যারা এখন এই ঘটনার তদন্ত করছে তাঁদের প্রতি ভরসা আছে বলেই জানান তাঁরা। এও বলেন, সিবিআই-কে পর্যাপ্ত সময় তাঁরা দেবেন।
শুক্রবারই জয়নগর কাণ্ডের সাজা ঘোষণা হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। আরজি করের নির্যাতিতার বাবা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ''আমাদের সাহস আরও বেড়ে গেল। আমরাও চাই আমাদের মেয়ের ঘটনায় কঠোরতম সাজা হবে এবং আশা রাখছি তা হবেই।'' জয়নগরের ঘটনার ৬২ দিনের মাথায় সাজা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আরজি করের ঘটনার ১০০ দিন হয়ে গেলেও বিচার হয়নি। এই নিয়ে তাঁরা হতাশ কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার বাবা জানান, হতাশার জায়গা নেই। সিবিআইকে সময় দিতে হবে।
আরজি করের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরাট সমালোচনা হয়েছে। নির্যাতিতার বাবাও বলছেন, সরকারের মনোভাব শুরু থেকে ঢিলেঢালা ছিল এবং পুলিশ তথ্য প্রমাণ জোগাড়ের থেকে বেশি তথ্য প্রমাণ লোপাটে ব্যস্ত ছিল। এর প্রমাণ এখন সকলের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। এতকিছুর পর সিবিআই তদন্তভার নিয়েছে তাই সময় দিতেই হবে। আর তাঁরা সিবিআইকে সেই সময় দেবেন। একই সঙ্গে আশা, আরজি করের ঘটনার বিচারও খুব শীঘ্রই হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর মনে হয়েছিল তাঁর মেয়ে বিচার পাবে। কিন্তু দেখা যায় প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব রয়েছে এবং পুলিশ সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়ে কাজ করছে। তাই এখন সিবিআই-কে সময় না দিলে হবে না। তাঁরাও সময় চেয়ে নিয়েছে। তাই তাঁরা ভরসা হারাচ্ছেন না। তবে সরকার এবং সিবিআই-এর ওপর চাপ বজায় রাখতে পথে নেমে আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন নির্যাতিতার বাবা।
প্রসঙ্গত, জয়নগরের নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হয়। এর ২৫ দিনের মাথায়, গত ৩০ অক্টোবর পেশ হয় চার্জশিট। আর বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর মুস্তাকিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। শুক্রবার হয় রায়দান। এতেই সাহস বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা।