
নিহত চিকিৎসকের বাবা।
শেষ আপডেট: 19 August 2024 12:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল মেয়ের। জল্পনা ঘনিয়েছিল, সেই ডায়েরি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মিলতে পারে বলে। এবার, সেই ডায়েরিরই ছেঁড়া পাতার ছবি তাঁর কাছে আছে বলে জানালেন নিহত চিকিৎসকের বাবা।
এই খবর সামনে আসার পরেই সব মহলের প্রশ্ন, কী বলছে সেই ‘ছেঁড়া পাতা’? এ ব্যাপারে অবশ্য বিশদে কিছু বলতে নারাজ বাবা। তিনি জানিয়েছেন, সিবিআইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এই নিয়ে কিছু জনসমক্ষে বলতে নিষেধ করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেই পাতা দরকারে তুলে দেওয়া হবে তদন্তকারীদের হাতে।
নির্যাতিতার বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মেয়ে নিজের ব্যাগেই সবসময় এই ডায়েরি রাখতেন। মাঝে মধ্যে মশকরা করে তাতে কী লেখা আছে পড়তে চাইলে বলতেন- ‘একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ব্যক্তিগত ডায়েরিতে কী লেখা আছে তা পড়া উচিত নয়’। সঙ্গে যোগ করেন, ভবিষ্যতে সুখে থাকার ব্যাপারে, পড়াশোনায় আরও ভাল ফল করার ব্যাপারে কিছু কথা লেখা ছিল ডায়েরিতে।
বাবার আরও দাবি, রোজ বাড়ি ফিরে তাঁদের মেয়ে হাসপাতালের অনেক কথাই আলোচনা করতেন। বলতেন, কী কী ঘটনায় সে বিরক্ত।
তবে এই পাতা নিয়ে বিতর্কও ঘনিয়েছে। মেয়ের ডায়েরির পাতা ছেঁড়া হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর দাবি, এই ডায়েরি যখন পুলিশ সিজ করেছিল, তখনই প্রমাণ লোপাটের জন্য পাতা ছেঁড়া হয়। ডায়েরি থেকে মেয়ের খুনের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনও সূত্র মিলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, পাতা যে ছেঁড়া হয়েছে, সে প্রমাণ তাঁদের কাছে আছে।
প্রসঙ্গত, নির্যাতিতার মা-বাব প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং পুলিশের ভূমিকায় তাঁরা 'সন্তুষ্ট নন'। নির্যাতিতার বাবার কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রী ন্যায়বিচার দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু যে সব সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের দাবি করছেন, তাঁদের তিনি জেলে ভরার চেষ্টা করছেন। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সন্তুষ্ট নই। ওঁর দেওয়া কোনও ক্ষতিপূরণ নিতেও অস্বীকার করেছি। যে তদন্ত করা হচ্ছে, তাতে কোনও ফলাফল আসেনি। দেখা যাক কী হয়। মেয়ের ডিপার্টমেন্ট থেকে বা কলেজ থেকেও সেভাবে কেউ আমাদের সহযোগিতা করেনি। আমার মনে হয় পুরো ডিপার্টমেন্টই এই ঘটনায় জড়িত।'
এর আগেও তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তার টুঁটি চেপে ধরছে শাসকদল। তাঁর অভিযোগ, 'যাঁরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কণ্ঠস্বর চেপে ধরেছেন। তিনি নিজে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। অথচ অন্যদের প্রতিবাদ যাতে না থেমে যায়, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করছেন।'
শুধু বাবা নন, নিহত চিকিৎসকের মাও মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচারের দাবি রেখেছেন জোরালো ভাবে। তিনি এ-ও বলেন, বিচার পেলে তবেই তিনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবেন। 'আমি দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি করছি। তা পূরণ হলে তবেই আমি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করব। তবে সবার আগে বিচার চাই।'