
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2025 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে চাকরি হারিয়েছেন রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী (SSC Case Verdict)। সোমবার তাঁরাই নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor) একটি সভা ডেকেছেন। তাতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন চাকরিহারারা। পাশাপাশি প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং সিবিআই তদন্ত নিয়ে।
রবিবার শহিদ মিনারের পাদদেশে জমায়েত করেন চাকরিহারা প্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি, রাজ্য সরকারের জন্য আজ এই অবস্থা হয়েছে তাঁদের, তাই সরকারকেই সব ঠিক করতে হবে। যারা যোগ্য তাঁদের চাকরি ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। চাকরিতে পুনর্বহাল না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁরা মানতে পারছেন না কারণ শীর্ষ আদালত কীসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তাঁদের বোধগম্য হয়নি।
চাকরিহারাদের কথায়, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ আছে তাঁকে বাদ দেওয়া হল, সঙ্গে যোগ্যদেরও বাদ দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে এমন রায় দিতে পারে তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁদের এও বক্তব্য, সব রাজনৈতিক দলগুলি এখন মরা-কান্না কাঁদছে! প্রত্যেকেই বলছে তাঁরা এই রায় মানতে পারছেন না। যোগ্যদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। অর্থাৎ, এক কথায় তাঁরাও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে এই ইস্যুতে একজোট হয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।
এই মামলায় সিবিআই তদন্ত করছে এবং অযোগ্যদের তালিকা সংক্রান্ত তথ্য তাঁদের কাছে ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। চাকরিহারাদের বক্তব্য, সিবিআই-এর তদন্ত রিপোর্ট শীর্ষ আদালত গ্রাহ্য করেনি। তাহলে সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত করাল হল কেন? কী লাভ হল সিবিআই তদন্ত করে? চাকরি বাতিলের পর এই প্রশ্ন তুলেই সরব চাকরিহারারা। তবে সোমবার তাঁরা নেতাজি ইনডোরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। জানিয়েছেন, বিচারের আশায় রয়েছেন তাঁরা।
এদিকে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ ইতিমধ্যে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে আগামী ২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযান করবে তারা। কার্যত ডেডলাইনও দিয়ে রেখেছেন চাকরিহারাদের একাংশ। পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি মঞ্চের সঙ্গে বসে যদি আলোচনা না করা হয়, সমস্যার সমাধান না করে প্রশাসন, তাহলে মঞ্চের কর্মসূচি বহাল থাকবে।