
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 September 2024 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খোলা মনে আলোচনায় যে তাঁরা রাজি তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তবে বৈঠকে 'অভিভাবক' হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছেন তাঁরা। বুধবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন প্রতিবাদী চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, বৈঠক নবান্ন বা স্বাস্থ্যভবন যেখানে খুশি হতে পারে, আপত্তি নেই। তবে তাঁরা চান, অভিভাবক হিসেবে সেখানে থাকুন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নের তরফে জুনিয়র ডাক্তারদের বুধবারই আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের বেশ কয়েক দফা শর্ত রেখে এদিনই নবান্নে আলোচনায় যোগ দিতে যাননি। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ বলেন, আলোচনায় কোনও শর্ত থাকে না। কিন্তু জুনিয়র ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা, তাঁরা কোনও জেদ করছেন না, এটা তাঁদের অধিকার। যে ৫ দফা দাবি তাঁদের রয়েছে তা মেনে নিলেই তাঁরা বৈঠকে যাবেন। কিন্তু না মানা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
জুনিয়র ডাক্তাররা সব মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৩০ জনের একটি দল নিয়ে যেতে চেয়েছেন বৈঠকে। তাঁরা এও চেয়েছেন সংবাদমাধ্যমের সামনে আলোচনা হবে। কিন্তু নবান্নের তরফে এতজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই বৈঠকে ডাক পেলেও বুধবার কেউ যাননি। তবে জুনিয়র ডাক্তাররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় বসতে তাঁরা রাজি। এখনই তাঁদের দাবি মানা হলে, পর মুহূর্ত থেকেই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। সাফ কথা, এইভাবে টানা কাজ বন্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী কেউ নয়। কিন্তু যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য যতক্ষণ না অপরাধীদের ধরা হচ্ছে, ততক্ষণ কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের কাজে ফেরার বার্তা দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে সেই নির্দেশ মানতে হত জুনিয়র ডাক্তারদের। কিন্তু তাঁরা তা মানেননি। তাঁদের স্পষ্ট কথা, শুধু জুনিয়র ডাক্তাররা কাজ না করলে যদি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ে তাহলে তার দায় তাঁদের নয়, সরকারের। পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁরা বলেছেন, ৯৩ হাজার ডাক্তার রয়েছে যাঁদের মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার জুনিয়র ডাক্তার। এতেই যদি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ে তাহলে বুঝতে হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চূড়ান্ত বেহাল দশা।