
ফিরহাদ হাকিম এবং প্রিয়দর্শিনী
শেষ আপডেট: 18 December 2024 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এমন মন্তব্য করেছিলেন যে তা নিয়ে বিরাট বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই নিয়ে তৃণমূলের তরফেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। এবার বাবার হয়ে ব্যাটন ধরলেন মেয়ে প্রিয়দর্শিনী। তাঁর যুক্তি, বাবার উর্দুতে বলা কথা বুঝতে হয়তো সমস্যা হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য ছিল, “বাংলায় আমরা ৩৩ শতাংশ। কিন্তু গোটা ভারতে মাত্র ১৭ শতাংশ। কিন্তু আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু (Muslim Minority) মনে করি না। একদিন আমরাই সংখ্যাগুরুর চেয়েও সংখ্যাগুরু (Majority) হব।” কলকাতার মেয়রের এই কথায় হইচই শুরু হয়। তবে এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়ে তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী বলেছেন, উর্দু ভাষায় কথা বলেছেন বলে তাঁর বাবার মন্তব্য অনেকে বুঝতে অসুবিধা হয়েছে। তিনি এক কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু অন্য মানে করা হয়েছে।
প্রিয়দর্শিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দ্য ওয়াল। তিনি বলেন, ''এমন কিছু বলা হয়নি যার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা এনে নোংরামি করতে হবে। তবে এটা বিজেপির স্বভাব। আর আমাদের সবার মাতৃভাষা বাংলা। তাই উর্দুতে বলায় বিষয়টি একটু গুলিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।'' প্রিয়দর্শিনীর কথায়, তাঁর বাবা বলতে চেয়েছেন মুসলিমরা এখন সংখ্যালঘু আছে ঠিকই কিন্তু শিক্ষার যথাযথ সুযোগ পেলে তাঁরাও একদিন সমাজের সংখ্যাগুরু স্তরে পৌঁছে যাবে। ৩৩ শতাংশ বলে মনমরা হওয়ার কোনও ব্যাপার নেই। এটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন।
বিরোধী শিবির যারা তাঁর বাবার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কটাক্ষ করছেন তাঁদের উদ্দেশে প্রিয়দর্শিনীর খোঁচা, কেউ কুৎসা করে স্বভাবে আর কেউ অভাবে। তাই এই বিষয়ে কান দিয়ে লাভ নেই। তবে বাংলাদেশ ইস্যুর জন্যই কি বিজেপি আরও বেশি করে এই বিষয়টি নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়দর্শিনী বলেন, ''কেউ গাছের যে ডালে বসে সেই ডালই যদি কাটে তাহলে নিজেই পড়ে যাবে। প্রতিবেশী দেশে যা হচ্ছে তা সত্যিই লজ্জাজনক। যেই সংখ্যালঘু হোক না কেন, মানুষ হিসেবে দেখতে গেলে খুবই খারাপ বিষয়। কিন্তু সেই ইস্যু নিয়ে যখন কেউ কলকাতায় বসে নিজের দেশে আগুন লাগাচ্ছেন, তখন ভাবা উচিত। রাজনীতির জন্য মানুষের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।''
তৃণমূল সূত্রে খবর, ফিরহাদ হাকিম দলকে জানিয়েছেন, তাঁর কথার অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগুরু হয়ে ওঠার কথা সরল পাটিগণিতের অর্থে বলেননি। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, সংখ্যালঘু মুসলমানদের আর্থ সামাজিক অনগ্রসরতার একটা বড় কারণ তথা প্রতিবন্ধকতা হল শিক্ষা। সে কারণেই সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রেও বৈষম্য বা ফারাক তৈরি হচ্ছে।
ফিরহাদ থার্টি নামে ববি হাকিমের উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাঁরা সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উৎসাহ দেয়। পুরমন্ত্রীর বক্তব্য, তিনি ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘুদের অনগ্রসরতা কাটানোর কথাই বোঝাতে চেয়েছিলেন।