
পলিগ্রাফ টেস্ট।
শেষ আপডেট: 24 August 2024 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী পড়ুয়া-চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের তদন্ত করছে সিবিআই। প্রধান ও একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্টের অনুমতি আগেই পেয়েছিল তারা। এর পরে প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডক্টর সন্দীপ ঘোষ এবং আরজি কর হাসপাতালের আরও চার জন সদস্যের পলিগ্রাফ টেস্ট করার জন্য অনুমতি চায় তারা। মঞ্জুর হয়েছে তাও।
সব মিলিয়ে মোট ৬ জনের পলিগ্রাফ টেস্ট করবে সিবিআই। আজ, শনিবারই সেই টেস্ট শুরু হল। এক এক করে ছ’জনের পরীক্ষা করানো হবে, ফলে অনেকটাই সময় লাগবে।
জানা গেছে, এই টেস্ট করার জন্য ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছে। সিজিও কমপ্লেক্সের সিবিআই দফতরে তোড়জোর শুরু হয়েছে পরীক্ষার। এদিকে আজ নবম দিন হয়ে গেল, ফের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়ে পৌঁছেছেন সন্দীপ ঘোষ। তিনি গতকালই ব্যক্তিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন পলিগ্রাফের। মনে করা হচ্ছে, তাঁর বলা সমস্ত কথা সত্যি কিনা তা জানা জরুরি হয়ে উঠেছে এই তদন্তে।
তবে সঞ্জয় রায় যেহেতু এখন জেল হেফাজতে রয়েছে, তাই তার পরীক্ষা জেলেও হতে পারে। ৯ তারিখ সকালে তরুণী পড়ুয়া-চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত ও ধর্ষিত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় একমাত্র ও প্রধান অভিযুক্ত, ধত সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করার অনুমতি আগেই মিলেছে। সঞ্জয় রায়কে ভোর চারটে নাগাদ সেমিনার হলে ঢুকতে এবং চারটে চল্লিশ নাগাদ বেরোতে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। তরুণীর মত্যুর সময়ও ৪:১৫ থেকে ৪:৪০ বলে ধারণা করা হয়েছে। ফলে এই সঞ্জয় সত্যি বলছে কিনা, তা জানা সবচেয়ে জরুরি।
এছাড়াও আরজি করের আরও চার পড়ুয়া-চিকিৎসকের পলিগ্রাফ করতে চেয়েছে সিবিআই। সিবিআই সূত্রের খবর, দু'জন প্রথম বর্ষের পিজিটি ডাক্তারের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হবে, যাঁদের আঙুলের ছাপ ওই সেমিনার রুমে পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার রাতে তাঁরা দু'জনেই নিহত সেই তরুণীর সঙ্গে ডিউটিতে ছিলেন এবং ওই তরুণী সেমিনার রুমে বিশ্রাম নেওয়ার আগে একসঙ্গে রাতের খাবারও খেয়েছিলেন।
এছাড়াও একজন হাউসস্টাফের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাঁকে ঘটনার দিন দোতলা থেকে চারতলায় (সেমিনার রুম অর্থাৎ ক্রাইম সিন এই তলাতেই অবস্থিত) যেতে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। এই তালিকায় রয়েছেন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও, যিনি চারতলাতেই ছিলেন এবং রাতে বিশ্রাম করতে যাওয়ার আগে নিহত ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
সিবিআই সূত্রে যদিও খবর মিলেছে, নিহত ওই তরুণীর দেহের যে ডিএনএ মিলেছে, তাঁর যে মেডিক্যাল রিপোর্ট, তাতে এই চার ব্যক্তির সঙ্গে কোনও যোগসূত্র মেলেনি অর্থাৎ তাঁরা সরাসরি ধর্ষণে যুক্ত ছিলেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সিবিআই জানতে চায়, যে তাঁরা ঘটনার পরে প্রমাণ হাপিস করা বা কোনওরকম ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন কিনা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পলিগ্রাফ টেস্ট এমন এক পরীক্ষা, এই টেস্ট চলার সময়ে যখন কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন অভিযুক্ত, তখন তাঁর হার্টরেট, রক্তচাপ, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মতো বিভিন্ন শারীরিক বিষয়গুলি পরিমাপ করা হয়। মিথ্যে কথা বলার সময়ে এই প্যারামিটারগুলির হেরফের হয়, যা দেখে বোঝা যায়, টেস্টে অংশগ্রহণ করা ব্যক্তি মিথ্যে বলছেন কিনা।
এই টেস্টে চার থেকে ছয়টি সেন্সর ব্যবহার করা হয়। পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি মেশিন ব্যবহার করা হয়। সেখানে এই সেন্সর থেকে একাধিক সংকেত কাগজের একটি স্ট্রিপে গ্রাফ আকারে রেকর্ড করা হয়। সেই গ্রাফ খুঁটিয়ে দেখেই বোঝা যায়, টেস্টে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি সত্যি বলছেন, নাকি মিথ্যে। তবে অনেকেই মনে করেন, প্রশ্নের উপরও এই টেস্টের নির্ভুলতা অনেক রকম বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। সব মিলিয়ে ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্ভুল উত্তর পাওয়া যেতে পারে এতে।