
হরিদেবপুর থানা
শেষ আপডেট: 28 November 2024 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ ছেড়েছেন দু'মাস হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সেই বাড়িরই বৃদ্ধার সঙ্গে খাতির জমাতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন পরিচারিকা ও তাঁর স্বামী। তারপরই সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে শাশুড়ি-বৌমাকে মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে আলমারি থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিলেন দু'জন। রাত কাটতে না কাটতেই পরিচারিকা ও তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উদ্ধার হল টাকা।
ঘটনাটি কলকাতার হরিদেবপুর থানার সোদপুর মন্দিরবাড়ি এলাকার। মঙ্গলবার সন্ধেয় কাজ থেকে ফিরে বাড়ির ছেলে অভিজিৎ দাস দেখেন দরজা হাট করে খোলা। ভেতরে ঢুকে দেখেন মা-স্ত্রী দু'জনেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছেন।
তড়িঘড়ি ডাক্তারকে খবর দেন অভিজিৎ। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানান মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করা হয়েছে দু'জনকে। বেশ খানিকক্ষণ পর তাঁদের জ্ঞান ফিরলে জানা যায় বাড়ির প্রাক্তন পরিচারিকা সঞ্জু সরকার ও তাঁর স্বামী বৈদ্যনাথ এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এরপরই অভিজিৎ দেখেন মা-স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য রাখা চার লক্ষ টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে।
অভিজিৎ তাঁর মা-স্ত্রীর কাছে জানতে চান ঠিক কী হয়েছিল? তখনই জানা যায় স্বামীকে নিয়ে খোঁজ নিতে এসেছিলেন প্রাক্তন পরিচারিকা ও তাঁর স্বামী। বৃদ্ধার কথায়, 'ওরা এসে বলল, মাসিমা কেমন আছেন? অনেক দিন দেখা-সাক্ষাৎ নেই। তাই খোঁজ নিতে এলাম। তারপর স্বামীকে নিয়ে ঘরে এসে বসেন।'
এতদিনের পরিচিতকে দেখে অভিজিতের মা ও স্ত্রীও গল্প জুড়ে দেন। পরিচারিকার স্বামীর জন্য অভিজিতে মা ফলের রস নিয়ে আসেন। সঞ্জু জেদাজেদি করেন সেই ফলের রস অভিজিতের মা ও স্ত্রীকেও খেতে হবে। শাশুড়ি-বৌমার জন্য গ্লাস এলে সুযোগ বুঝে ফলের রসের মধ্যে মাদক মিশিয়ে দেন তাঁরা। তা খেয়েই বেহুঁশ হয়ে পড়েন দু’জনে।
এরপরই ঘর থেকে চার লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান দু’জন। সন্ধেয় অভিজিৎ এসে সব জানতে পেরে হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ধরে রাতে অভিযুক্ত সঞ্জু-বৈদ্যনাথকে হরিদেবপুর এলাকা থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।