
শেষ আপডেট: 23 March 2024 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষরক্ষা হল না। মাত্র পাঁচঘণ্টার মধ্যেই নিউটাউন কাণ্ডের তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। শনিবার সাতসকালে নিউটাউনে খালের ধারে পড়ে থাকা একটি লাল ট্রলি ব্যাগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যাগ থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে দেখে সাফাইকর্মীরা পুলিশ ডাকেন। এরপরেই ব্যাগে লাগানো তালা ভেঙে এক প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেখান থেকেই বেরোচ্ছিল রক্ত। তখন ওই ব্যক্তির নাম জানা না গেলেও মাত্র পাঁচঘণ্টার মধ্যেই পকেটে থাকা ট্রেনের টিকিটের সূত্রে তাঁর পরিচয় জানতে পারল পুলিশ।
সূত্রের খবর, বছর ৫০ এর ওই ব্যক্তির নাম সুবোধ সরকার। তিনি সোদপুরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভুবনেশ্বরে তাঁর প্রিন্টিং প্রেস ছিল। ছিল বাড়িও। সেই সম্পত্তি বিক্রি করে উত্তর ২৪ পরগনায় চলে এসেছিলেন । টাকা রেখেছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে। এদিন তার দেহ উদ্ধারের পরেই তদন্তে নামে টেকনো সিটি থানার পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এক তরুণীও রয়েছে পুলিশের আতস কাচের নীচে। প্রৌঢ়ের বিপুল অর্থই অনর্থ হল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে পটাশপুর এলাকায় নাকা চেকিংয়ের সময় একটি অ্যাপ ক্যাব দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। ওই গাড়িতে রক্ত লেগেছিল। এরপরেই সেই গাড়িতে থাকা সৌম্য জানাকে আটক করে পুলিশ। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের রিলেশন অফিসার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে একটি মৃতদেহ নির্জন জায়গায় ফেলার জন্য অ্যাপ ক্যাবটিকে ভাড়া করা হয়েছিল। সৌম্যর জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন শনিবার ভোরে নিউটাউনে নালার ধার থেকে ট্রলিব্যাগে সুবোধবাবুর দেহ মেলে। কী কারণে তাঁকে খুন করা হল তা জানার জন্য ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শনিবার ভোরে নিউটাউনের পাঁচুরিয়া এলাকায় নালার ধারে লাল রঙের ট্রলি ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন। প্রথমে কেউ খেয়াল না করলেও পরে রক্ত চুঁইয়ে পড়তে দেখে আলোড়ন পরে। ব্যাগটি তালা বন্ধ অবস্থায় ছিল। পুলিশ পৌঁছে তালা ভেঙে ব্যাগের ভিতর থেকে ওই প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধার করে।