দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার জাল ভ্যাকসিনেশন কাণ্ডের মূল পাণ্ডা দেবাঞ্জন দেবকে নিয়ে এবার উঠে এল নয়া তথ্য। আর তাতেই পরিষ্কার পুলিশ এই ভুয়ো আইএএসের বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। পুলিশের তৎপরতায় অন্তত এক বছর আগেই হয়তো আটকে দেওয়া যেত দেবাঞ্জনের বাড়াবাড়ি।
জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে এই দেবাঞ্জন দেবের নামে একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন জনৈক ব্যক্তি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ইলেক্ট্রনিক কমপ্লেক্সের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল দেবাঞ্জনকে। সরকারি চাকরির নাম করে জাল নিয়োগপত্র পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেসময় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই পুলিশ সেদিন জানতে পেরেছিল দেবাঞ্জন দেব আদৌ কোনও আইএএস অফিসার নন। সরকারি স্ট্যাম্প, সরকারি সই সবটাই তাঁর জাল। সেভাবেই ভুয়ো নিয়োগপত্র পাঠিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশের হাতে এই তথ্য এসেছিল ২০২০ সালের মার্চ মাসেই। কিন্তু দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেবল মুচলেকায় সই করিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেদিনের সেই দেবাঞ্জন বাড়তে বাড়তে আজ এতদূর পৌঁছেছে। ডালপালা মেলেছে তাঁর ভুয়ো আইএএস পরিচয়ও।
গত বছরের ওই পুলিশি জেরার পরেই দেবাঞ্জন দেবের আসল স্বরূপ জানতে পেরেছিলেন তাঁর বাবা মা'ও। এমনকি তাঁর বাড়ি থেকে জাল সরকারি স্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কেন তখনই এই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
ইতিমধ্যে দেবাঞ্জন দেবের সঙ্গে ছবি দেখা গেছে শাসকদলের একাধিক নেতার। ফলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে নতুন করে। গতকাল নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রতারককে তিনি মানুষ বলেই মনে করেন না। তাঁর বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া হবেই, সেই সঙ্গে পুলিশ ও পুরসভার দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, 'কাউকে রেয়াত করা হবে না।' এখন দেখার জল কতদূর গড়ায়।