
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 September 2024 23:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করের আশপাশের এলাকায় বেআইনি জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়াল পুলিশ। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরজি কর সংলগ্ন এলাকায় আইনি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা বাড়ানো হল।
গত ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে আরজি করে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এরপরই ১৮ অগস্ট থেকে কলকাতা পুলিশের তরফে আরজি কর সংলগ্ন এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞাা জারি করা হয়েছিল। সেই সময়সীমায় আবার বাড়ানো হল।
শ্যামপুকুর, উল্টোডাঙা ও টালা থানা এলাকার বেলগাছিয়া রোড, জেকে মিত্র রোড ক্রসিং, শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়-সহ কয়েকটি রাস্তার ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা পুনরায় জারি করল পুলিশ।
সম্প্রতি আরজি কর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল বলেছিলেন, সর্বোচ্চ আদালত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা না দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু রোজ রোজ পথ আটকে মিছিল, মিটিং করে সাধারণের অসুবিধা তৈরি করা হচ্ছে। জবাবে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছিলেন, সরকার এ বিষয়ে আইনমতো পদক্ষেপ করতে পারে। তাতে কোনও বাধা নেই।
প্রশাসনের শীর্ষ সূত্রে এও বলা হচ্ছে, বহু মিছিল ও মিটিং নাগরিক মঞ্চের নামে রাজনৈতিক দলগুলি সংঘটিত করছে। কলকাতায় এ ব্যাপারে বিশেষ ভাবে সক্রিয় সিপিএম। পাড়ায় পাড়ায় তারা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে মিছিলের আয়োজন করছে বা স্কুলের প্রাক্তনীদের গ্রুপ বানিয়ে আন্দোলন সংঘটিত করছে। সুতরাং বিষয়টি আর ১৪ অগস্টের মতো পুরোদস্তুর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ নেই। এ সবের নেপথ্যে এখন অনেকটাই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলে মনে করছে শাসক দল ও সরকার।
এমনকী আরজি করের ঘটনায় বার বার রাত দখল নিয়ে গত সোমবার তাঁর পর্যবেক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছিলেন, কথায় এভাবে রাত পাহাড়া দেওয়া পুলিশের কাজ নয়। পুজোর সময়ে রাতে এমন পুলিশি ব্যবস্থা থাকে, কোনও অশান্তির ঘটনা হলে থাকে, কিন্তু সেটা নৈমিত্তিক হতে পারে না। তা ছাড়া রাতে এত সোরগোল হলে অনেক প্রবীণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে বলেও মত মুখ্যমন্ত্রীর।