
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 February 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট এসেছে তাতে ট্যাংরায় (Tangra Triple Deaths) তিনজন খুন হয়েছেন এটা স্পষ্ট। তবে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর মিলছে না। ট্যাংরা (Tangra) অটল শূর রোডের বাড়ির সামনের এক সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) পরিবারের তিন সদস্যকে (দুই ভাই এবং নাবালক) বেরতে দেখা গেছিল। তবে বাড়ির আর কোনও সিসিটিভি থেকে তথ্য পাচ্ছে না পুলিশ। কারণ সেগুলি নাকি 'নিষ্ক্রিয়' করা ছিল।
দে পরিবারের 'চিত্তনিবাস' কার্যত সিসিটিভি দিয়ে মোড়া ছিল। ঘরে, বাইরে সব জায়গায় ক্যামেরা। কিন্তু এখন সেই ক্যামেরার তথ্য হাতে পাচ্ছে না তদন্তকারী দল। পুলিশের অনুমান, সেগুলি আগে থেকে বন্ধ করে রাখা ছিল। তাহলে কি স্ত্রীদের খুনের আগে সব ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন দুই ভাই? তারপর গাড়ি নিয়ে পালানোর ফন্দি করেছিলেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মরিয়া পুলিশ।
ট্যাংরার ওই বাড়িতে শুক্রবার সকালেই পৌঁছেছে এনআরএস হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। নমুনাও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। মনে করা হচ্ছে, বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে কোনও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে। কিন্তু সিসিটিভির তথ্য হাতে এল আরও গভীরভাবে অনেক কিছু জানা যেত। কিন্তু বাড়িতে কমপক্ষে ২০টি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও তা আপাতত কাজে লাগাতে পারছেন না তদন্তকারীরা।
পুলিশের নজরের আপাতত যা এসেছে তাতে, বাড়ির বাইরে ৭-৮টি ক্যামেরা লাগানো। ভিতরে আরও বেশ কয়েকটি। ছাদেও ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু কোনও ক্যামেরাই চালু নয়। অনুমান করা হচ্ছে, ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই তা কেউ বন্ধ করে দিয়েছিল। এই কাজ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন বা দুজনে মিলে করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কোনও ভাবে সেগুলি চালু করে তার থেকে বিশেষ কোনও ফুটেজ পাওয়া যায় কিনা, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, 'নিখুঁত ভাবে' দুই বধূর হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। যেরকম নিখুঁত ভাবে শিরা কাটা হয়েছে তা একমাত্র ঘুমন্ত বা অচৈতন্য অবস্থায় থাকলেই সম্ভব। কাটার সময়ে দু'জনের কারও হাত সে ভাবে নড়েইনি পর্যন্ত। এখানেই সন্দেহ, এই কাজ করতে গেলে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তাই সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করেই সেই কাজ করা হয়ে থাকতে পারে যাতে, কোনওভাবেই কিছু প্রমাণ না পাওয়া যায়।