
শেষ আপডেট: 21 October 2023 10:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মানেই ঠাকুর দেখা আর পেটপুজো। বছরের এই চারটে দিন যা মন চায় খেতে মানা নেই। প্যান্ডেল হপিংয়ের পাশাপাশি স্ট্রিট ফুড খেতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বাঙালি। সে রাস্তার ফুচকা-ঘুঘনি হোক বা রোল-চাউমিন-ফিশ ফ্রাই-বিরিয়ানি। রাস্তায় রাস্তায় খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। প্রতিটা স্টলের সামনেই ভিড়। কিন্তু এর মধ্যেই এমন খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর যা পিলে চমকে দেবে। রাস্তার খাবারে নাকি পাওয়া গেছে ঘর রঙ করার রাসায়নিক। এমন বিষ যা শরীরে গেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
খাদ্য সুরক্ষা অফিসাররা বলছেন, কিছু খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে বাড়ি রং করার রাসায়নিক ‘মেটানিল’। মানুষের শরীরের জন্য যা মারাত্মক বিষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার তৈরিতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে না। তাছাড়া বিরিয়ানি বা ওই জাতীয় খাবারে যে ফুড কালার ব্যবহার করা হচ্ছে তাও বিপজ্জনক। সস্তার খাবারে এমন রাসায়নিক মিশছে যা ভবিষ্যতে বড় রোগের কারণ হতে পারে।
ভারতে সরকার অনুমোদিত কিছু খাদ্যের রং রয়েছে। যেমন লাল রঙের জন্য কারমোসিন, হলুদের জন্য টারট্রাজিন, নীলের জন্য ব্রিলিয়ান্ট ব্লু ইত্যাদি। এইসব রং আলাদা করে বা একটার সঙ্গে আরেকটি মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। নানা খাদ্য দ্রব্যে এই রঙ ব্যবহার হয়। যেমন নরম পানীয়, আইসক্রিম, কেক, লজেন্স। এছাড়া প্রাকৃতিক রং, যেমন হলুদ, কেশর, ক্যারোটিন ইত্যাদিও খাবারে ব্যবহার করা যায়। তবে সব রঙই ব্যবহার করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণেই। ইচ্ছামতো নয়। অনুমোদিত রং খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার হলেও কিন্তু শরীরে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অফিসাররা বলছেন, রাস্তার কম দামি খাবারে এইসব রঙই মিশছে অধিক মাত্রায়।
অতীতে বহুবার কলকাতার রাস্তার খাবার পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে রঙিন খাবারে বহু ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশছে। যেমন কমদামি বিরিয়ানি গ্রাহকদের চোখে আকর্ষণীয় করে তুলতে মেটানিল ইয়েলো ব্যবহার হয়। কারখানায় জামাকাপড় রঙিন করে তুলতে ব্যবহার হয় এই রঙ। সেই বিষাক্ত রঙ শরীরে গেলে ক্যানসার হতে পারে। বিরিয়ানি ছাড়াও এরকম হলুদ রাসায়নিক ব্যবহার হয় জিলিপি, অমৃতি জাতীয় মিষ্টিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রিটফুডগুলির মধ্যে ক্ষতিকারক আরও একটি খাবার হল মোমো। চপ-রোল-কাটলেটে তেল আছে। কিন্তু সেদ্ধ খাবার ভাজাভুজির তুলনায় কম ক্ষতি করে এমনটা ভেবে মোমো অনেকেই খান, কিন্তু এর স্ট্রিটফুডের স্টলে কম দামে মোমো দেওয়ার জন্য তার মধ্যে প্রচুর কম দামি রায়াসয়িক মেশানো হয়, যা কেবল ক্ষতিকারকই নয়, লিভারের জন্য বিষাক্তও বটে।
শিশুদের শরীরের ওপর এইসব রাসায়নিকের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সীসাযুক্ত রঙ অনেকদিন খেলে শিশুদের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়, রক্তাল্পতা হয়। বড়রাও এইসব ক্ষতি থেকে নিরাপদ নয়।