
গার্ডেনরিচ - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 March 2024 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মধ্যরাতে কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নং ওয়ার্ডে বেআইনি ভাবে নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভেঙে পড়ায় এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অন্তত ১২ জন। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচেও আরও কয়েক জন চাপা পড়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধীরা।
সোমবার সকালেই গার্ডেনরিচে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ, মালা রায়, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন। তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশকে।
বিজেপির তরফে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছিলেন সজল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার পিছনে জড়িত আছে শাসক দলের একাংশ। তাই দুর্ঘটনা প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করতে হবে এলাকার বিধায়ক তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও এলাকার কাউন্সিলর সামশ ইকবালকে। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তবে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কাজ করছে। কোনও ঘটনা ঘটলেই তার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়। তাই সেখানে সাংবাদিকদের ও বিরোধীদের ঢুকতে দেওয়া হয় না।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আবার এ ব্যাপারে দীর্ঘ টুইট করেছেন সোমবার সকালেই। তাঁর কথায়, গার্ডেনরিচ হল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দুর্গ। সেখানে এই ধরণের অন্তত ৮০০ বহুতল তৈরি হয়েছে। মেয়রের নিজের এলাকায় এরকম বেআইনি ভাবে বহুতলের নির্মাণ হচ্ছে, আর তিনি জানতেন না, এটা হতে পারে না। শুভেন্দুর দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় কাউন্সিলর, প্রোমোটার, এলাকার পুলিশের যোগসাজস রয়েছে। শাম ইকবালকেও গ্রেফতার করা উচিত।
গার্ডেনরিচের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালে ইতিমধ্যে ১৩ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এসএসকেএম হাসপাতালে আইসিইউ-তে ৭ জন ভর্তি। বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি ঘোষণা করেন, মৃতদের ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্মীয়মাণ বহুতলটি যে বেআইনি ছিল তা মেনে নিয়েছেন ববি হাকিম।