
শেষ আপডেট: 21 February 2025 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার ট্যাংরার অটল শূর রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দুই বধূ এবং এক কিশোরীর দেহ। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁদের তিন জনকেই খুন করা হয়েছে। নাবালিকা প্রিয়ম্বদার মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়, অন্যদিকে রোমি এবং সুদেষ্ণার গলা আর হাতের শিরা কাটা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই খুনের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে! পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের দেহই পড়েছিল দোতলায়, এদিকে রক্তমাখা ছুরি পাওয়া গিয়েছে তিনতলার ঘরে। এটা কী করে সম্ভব, সেই নিয়েও ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা।
সদ্য পাওয়া খবর, ট্যাংরার 'চিত্তনিবাসে' ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন এনআরএস হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। নমুনাও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। মনে করা হচ্ছে, বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলে কোনও নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে।
চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, 'নিখুঁত ভাবে' দুই বধূর হাতের শিরা কাটা হয়েছিল। যেরকম নিখুঁত ভাবে শিরা কাটা হয়েছে তা একমাত্র ঘুমন্ত বা অচৈতন্য অবস্থায় থাকলেই সম্ভব। কাটার সময়ে দু'জনের কারও হাত সে ভাবে নড়েইনি পর্যন্ত।
ঘটনা সামনে আসে বুধবার সকালে। রুবি এলাকার কাছে একটি পথ দুর্ঘটনা হয়। সেই দুর্ঘটনায় এক আহতের বয়ানের সূত্র ধরে ট্যাংরার অটল শূর রোড এলাকার ওই বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সূত্রে ওই বাড়ির দরজা ভেঙে বাড়ির দুই বউ ও এক মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
প্রণয় এবং প্রসূনরা বাইপাসের ধারের হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে একজন দাবি করেছিলেন, তাঁরা আত্মহত্যা করতে বেরিয়েছেন। সোমবার রাতে তাঁরা ছ'জন মিলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরের দিন দুই ভাইয়ের ঘুম ভেঙে যায়। জেগে ওঠে প্রতীপও। তার পরেই ঘুমন্ত অবস্থায় দুই বধূর শিরা কাটা হয় বলে অনুমান পুলিশের।
এখন দেখার এনআরএস-এর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা থেকে বিস্তারিত আর কী কী তথ্য খুঁজে পান।