
শেষ আপডেট: 31 January 2022 08:48
এলাকার লোকজন জানাচ্ছেন, ভোর চারটে নাগাদ গোলমাল হয়। আহত লোকনাথকে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, যখন ঘটনাটি ঘটেছে তাঁরা সেভাবে কিছুই দেখতে পাননি। তবে চিৎকার চেঁচামেচি তাঁরা শুনতে পেয়েছিলেন। স্থানীয় ক্লাব সংগ্রামী-র কালীপুজো হচ্ছিল। সেই প্যান্ডেলের পিছনে একটি টিনের ঘরের পাশে ভ্যানরিকশা রাখা হত। সেখানেই পড়ে ছিল লোকনাথ।
মৃতের বাবা দুলাল দত্ত বললেন, 'কাল রাতে বিয়ে বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে যাচ্ছে বলে বেরিয়েছিল। রাতেই ফিরে আসার কথা। কিন্তু ভোররাতে আমার মেজো ছেলে ফোন করে জানায় ছোট ছেলেকে আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।'
মা অনিতা দত্ত কান্নায় ভেঙে পরে বললেন, 'চারজন ছিল। একজন ধরা পড়েছে। ওকে চাপ দিলেই সবটা বেরিয়ে আসবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন দাসের বক্তব্য, 'খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। মদ খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কির সময়ে পড়ে গিয়েই সম্ভবত আঘাত লাগে।'
লোকনাথের গায়ে কোনও আঘাত ছিল না। তবে ভ্যানের ওপর কয়েক ফোঁটা রক্তের দাগ মিলেছে। ঘটনায় লোকনাথেরই বন্ধু গোপাল ভাদুড়ির নাম উঠে এসেছে। তাঁকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, ধাক্কাধাক্কির জেরে পড়ে যান লোকনাথ। আর তার জেরেই মৃত্যু। গোপাল ভাদুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।
লোকনাথের দাদার বন্ধু রনি দাস বললেন, 'ঠান্ডা মাথায় খুন বলে মনে হয় না। বন্ধুদের মধ্যে ঝামেলা। ধাক্কাধাক্কি। তার জেরে বেকায়দায় পরে গিয়েই এই ঘটনা।'
বাবার সঙ্গে ফুটপাথে হোটেল চালাতেন লোকনাথ। দুবছর হল বিয়ে হয়েছে। স্ত্রীর না পুজা দত্ত। ২৬ দিনের শিশু সন্তান রয়েছে। স্ত্রী শোকে মুহ্যমান।
এলাকায় নিরীহ ছেলে হিসেবেই পরিচিত লোকনাথ। আচমকা মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিন কালীপুজো উপলক্ষে এলাকার লোকজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বারোশো জনের সেই খাবার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'