
শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি-গুগল)
শেষ আপডেট: 20 March 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেন আরও এক অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার, ইডির বিশেষ আদালত হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিবিআই-এর মামলা থেকে জামিন দেয়। এর আগে তিনি একই মামলায় ইডির তরফেও জামিন পেয়েছিলেন। এই নিয়ে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মোট ছ’জন অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া হল। আদালতের এই রায় শুনে সংশোধনাগারের ভেতরেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শান্তনু। কেঁদে ফেলেন সকলের সামনেই।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২৩ সালে শান্তনুকে ইডি গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীতে এই মামলায় সিবিআইও তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
সিবিআই-এর তদন্তে জানা যায়, ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের এক অডিও রেকর্ডিংয়ে শান্তনুর কণ্ঠস্বর পাওয়া গেছে। চার্জশিটেও শান্তনুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনে সিবিআই। অডিওর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য শান্তনুর কণ্ঠস্বরের নমুনাও সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। শান্তনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছিলেন এবং হুগলি ডিপিএসসির প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি নিয়োগ করিয়েছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, এই টাকার বড় অংশই তিনি সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে দিতেন। সিবিআই আদালতে দাবি করেছিল, শান্তনু তৎকালীন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে রাজনৈতিক সংযোগ ও প্রভাব খাটিয়ে পুরো কাজটি করেন। ফলে জামিন পেলে তিনি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। তবে শান্তনুর আইনজীবী যুক্তি দেন, তাঁকে এখন আর ‘প্রভাবশালী’ বলা যায় না, কারণ তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত এবং দীর্ঘদিন জেলে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শান্তনুর আগে জামিন পেয়েছেন নীলাদ্রি দাস, তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ এবং ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র (অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত)। ৭ মার্চ জামিন পান অয়ন শীলও, তবে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁর মুক্তি হয়নি।
এবার শান্তনুর জামিনের ফলে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।