
আলিপুর চিড়িয়াখানা
শেষ আপডেট: 26 November 2024 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বর শেষ হতে মেরেকেটে হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। এরপরই শুরু হবে নতুন বছরের কাউন্টডাউন। প্রতি বছরই শীতের সময় রাজ্যবাসীর আকর্ষণের অন্যতম জায়গা আলিপুর চিড়িয়াখানা। না এবারও নিরাশ হতে হবে না। শীত জাঁকিয়ে পড়ার আগেই সোমবার থেকে চিড়িয়াখানায় বিশেষ উদ্যোগ রাজ্য বন দফতরের। চিড়িয়াখানার ইতিহাসে এমন ভাবনা প্রথম।
ভাবছেন তো, বিষয়টা কী? যার জন্য এত আলোচনা! তবে বিষয়টি জানলে হয়তো একবার হলেও এই শীতেই ঢুঁ মারতেই হবে আলিপুরে। আসল বিষয়ে আসা যাক, এবার দর্শকদের খাঁচাবন্দী করার পরিকল্পনা নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আগে পশু-পাখিদের দেখতে পাওয়া যেত খাঁচার ভিতরে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা হবে। মানে খাঁচার ভিতরে থাকবেন দর্শকরা এবং বাইরে থাকবে ওরা।
চিড়িয়াখানার স্বর্ণময়ী হাউজের পাশে নতুন একটি খাঁচা তৈরি করা হয়েছে। যা ৬০ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৪ মিটার উঁচু কাচের তৈরি। সোমবার রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এর উদ্বোধন করেন এবং আজ থেকেই তা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হল। কাঁচে মোড়া খাঁচায় ঢুকে ২০০ মিটারের কাছাকাছি যাওয়া যাবে। মানে একদম চোখের সামনে থেকেই তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাবে।
তবে সেখানে অন্য কোনও পশু নয়, রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এদিন খাঁচার উদ্বোধন করে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘পুরোটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ওঁর নির্দেশেই বন দফতরের সবাই এক হয়ে কাজ করেছেন এবং এমন অভিনব জিনিস তৈরি হয়েছে।’
বনমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ‘জঙ্গলকে নিয়ে আমার বেড়ে ওঠা। তাই ওদের সঙ্গে আমার খুব কাছের সম্পর্ক। সে কারণেই এমন চিন্তাভাবনা। আগামীদিনে রাজ্যের বন দফতর এমন আরও পদক্ষেপ নেবে।’
দেশের পাশাপাশি বিদেশে খাঁচার ভিতর থেকে পশুপাখিদের দেখা গেলেও বাংলায় এমন উদ্যোগ প্রথম। চিড়িয়াখানার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খাঁচা ভ্রমণের জন্য আলাদা টিকিট লাগবে না। ৫০ টাকা খরচ করেই সব কিছু দেখতে পাওয়া যাবে।
ইতিমধ্যে চিড়িয়াখানায় দর্শকদের জন্য ১৪ প্রজাতির ২০০ পাখি ছাড়া হয়েছে। সেখানে বিদেশি একাধিক পাখির মতো ময়ূর, ঘুঘু, টিয়া, ময়না ও চন্দনার মতো পাখিও রয়েছে। আগামীদিনে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছেছে ৫ রকমের হরিণ। এসেছে ‘আলপাকা’ দক্ষিণ আমেরিকার এক বিশেষ প্রাণীও।
সবমিলিয়ে শীতের চিড়িয়াখানা যে জমজমাট হয়ে উঠবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সোমবারই নতুন খাঁচা দর্শন করতে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। তবে সপ্তাহ শেষে দর্শকদের ঠিকমতো সামাল দিতে চিড়িয়াখানার কর্মীদের যে মাথা খারাপ হবেই তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।