
গার্ডেনরিচ দুর্ঘটনাস্থল - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 20 March 2024 19:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার মধ্যরাতে গার্ডেনরিচের আজহার মোল্লা বাগান এলাকায় ঝুপড়ির উপর ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন বহু মানুষ। প্রাথমিকভাবে ৪ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। আশঙ্কা মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ ধ্বংসস্তূপে আরও কয়েকজনের আটকে থাকার অনুমান। লাগাতার উদ্ধারকাজ চলছে এলাকায়। তবে শুধু মানুষ নয়, উদ্ধার কাজ করছে কুকুরও।
গার্ডেনরিচের ঘটনাস্থলের চারদিকে চাঙড়, লোহার জাল, বাঁশ, টিন আরও বহু কিছু স্তূপের মতো পড়ে। ফলে সেইসব সরিয়ে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। এই মুহূর্তে তাই এনডিআরএফ-এর উদ্ধারকারী দলের কুকুর প্রাণের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে। জায়গায় জায়গায় সে শুঁকে বোঝার চেষ্টা করছে ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছে কিনা। এক্ষেত্রে এনডিআরএফ আলাদা যন্ত্রও ব্যবহার করছে। সেই যন্ত্রটির মাথায় একটি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সেটা দিয়ে স্ক্রিনে ছবি দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাবে ভিতরে আর কেউ আছে কিনা।
সিরিয়া-তুরস্কের ভূমিকম্পের সময়ে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল (এনডিআরএফ) উদ্ধারকাজে গেছিল। সেই দলের সঙ্গে গেছিল চারটি কুকুরও। তাদের নাম জুলি, রোমিও, হানি ও ব়্যাম্বো। গার্ডেনরিচে এদের মধ্যেই জুলি এবং র্যাম্বো এনডিআরএফ-কে সাহায্য করছে। ভগ্নস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান দেওয়াই তাদের একমাত্র কাজ।
গার্ডেনরিচ ববি হাকিমের নির্বাচন কেন্দ্র। সেই এলাকারই ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ৩ ফুট গলির মধ্যে কীভাবে ৬ তলা বাড়ি উঠছিল সেটাই মূল প্রশ্ন। এই ঘটনার জেরে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের চার অফিসারকে রাতারাতি সরিয়ে দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এঁদের মধ্যে একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং বাকি তিন জন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার।
সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকা পরিদর্শন করে তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন প্রমোটারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জন্য। তার পরই প্রমোটার মহম্মদ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযোগ। কিন্তু ফিরহাদ হাকিম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। মেয়রের সাফ কথা, বাড়ি বানানো একজন কাউন্সিলরের দেখার দায়িত্ব নয়, ইঞ্জিনিয়ারের দেখার দায়িত্ব। এই ইস্যুতে প্রথমে সব দায় বাম আমলের ঘাড়ে চাপিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। পরে অবশ্য কিছুটা অন্য সুরে তিনি বলেন, বেআইনি নির্মাণ সামাজিক ব্যাধি।