
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 February 2025 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরায় একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এদিকে তার আগে কলকাতার ইএম বাইপাসে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। তাতে তিনজন আহত হয়েছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, এই দুটি ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে! অনুমান করা হচ্ছে, আদতে ট্যাংরার ঘটনা আত্মহত্যাই নয়। আহত ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের খুন করে পালাতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।
যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন মহিলা (রোমি এবং সুদেষ্ণা দে) এবং একজন কিশোরী। এদিকে দুর্ঘটনায় আহত যারা হয়েছেন তারা দুই ভাই (প্রণয় এবং প্রসূন দে) বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের থেকে ট্যাংরার ওই বাড়িরই ঠিকানা জানতে পারা যায়। তখনই প্রাথমিক সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর আহতদের চাপ দেওয়ার পর তাঁরা জানতে পারে, যে দুই মহিলা মারা গেছেন তারা তাদের স্ত্রী এবং সন্তান। দুই ভাই জানিয়েছেন, স্ত্রীরা আত্মহত্যা করেছেন এবং তাঁরাও আত্মহত্যা করার জন্যই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
গাড়িতে দুই পুরুষ ছাড়াও এক নাবালক ছিল। সেও গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি রুবি হাসপাতালের মোড় থেকে অভিষিক্তার মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি ইএম বাইপাসের উপর কবি সুকান্ত মেট্রো স্টেশনের পিলারে ধাক্কা মারে। ঠিক কী কারণে এমন দুর্ঘটনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আত্মহত্যার যে তত্ত্ব উঠে আসছে তাতে সন্দেহ হচ্ছে পুলিশের। তাঁদের অনুমান, নিজের স্ত্রীদের খুন করেই পালাচ্ছিলেন দুই ভাই। কারণ একই পরিবারের তিনজনের একই রকমভাবে মৃত্যুর ঘটনা অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জানা গেছে, ওই পরিবারের গ্লাভসের ব্যবসা ছিল৷ আত্মঘাতী হয়ে থাকলে তার পিছনে মানসিক অবসাদ নাকি কোনও আর্থিক সমস্যা রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রুপেশ কুমার ঘটনার তদন্ত করছেন। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদে আপাতত উঠে এসেছে, পরিবারের সকল সদস্য ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। তিনজন হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। তারপর বাকি তিনজন আত্মহত্যার উদ্দেশে বেরিয়ে ইচ্ছে করে নাকি দুর্ঘটনা ঘটান! তবে পুরো বিষয়টাই এখন তদন্তসাপেক্ষ। আহতরা সঠিক বয়ান দিচ্ছেন নাকি খুন করে পালাতে গিয়ে এখন ধরা পড়ার পর গল্প বানাচ্ছেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।