রবিবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

আরজি করের চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু
শেষ আপডেট: 27 October 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ (RG Kar) হাসপাতালের এক চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত চিকিৎসকের নাম শুভজিৎ আচার্য (RG Kar Doctor Death)। তিনি ওই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভজিৎ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের (Madhyamgram) শিশির কুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিক অনুমান, হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিয়মিত কিছু ওষুধ গ্রহণ করতেন। সন্দেহ করা হচ্ছে, ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা শরীরে বিষক্রিয়া ঘটায়, যার জেরেই মৃত্যু হতে পারে। তাঁর দেহ বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় চিকিৎসক মহলে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মীদের একাংশ বলছেন, “খুব শান্ত, পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন শুভজিৎ। এমন মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছে না।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র দু’দিন আগেই আর এক চিকিৎসক শালিনী দাসের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। দমদমের বাসিন্দা শালিনী কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ভাড়াবাড়ি থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানিয়েছিল, শালিনী হাইপারটেনশনের রোগী ছিলেন এবং কিছুদিন ধরে অসুস্থও ছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা যায়, আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও, চ্যানেলের মাধ্যমে পুশ করা ওষুধের প্রভাবে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটেছিল কি না, তা জানতে ভিসেরা নমুনা পাঠানো হয়েছে রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবে।
ক্রমাগত চিকিৎসকদের এমন রহস্যমৃত্যুতে স্বভাবতই উদ্বেগ বাড়ছে চিকিৎসক মহলে। অনেকে বলছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং জীবনযাপনের অনিয়ম এখন ডাক্তারদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বস্তুত, প্রবল কাজের চাপ। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে আরজি কর হাসপাতালের চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলেন এক চিকিৎসক। নিজের ইচ্ছার কথা এবং যাবতীয় অভিযোগ বিশদ জানিয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি চিঠি লিখেছেন। পরে স্বাস্থ্য ভবনে ইস্তফার চিঠি পাঠাবেন বলেও জানিয়েছেন।
আরজি করের এমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাপস প্রামাণিক। তাঁর অভিযোগ, ইমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগে রাতে কাজের প্রবল চাপ থাকে। তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মী বিভাগে থাকেন না। একা এত চাপ তিনি সামলাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ, একাধিক বার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও লাভ হয়নি। রাতের ডিউটিতে যত জনের থাকার কথা, তত জন থাকেন না বলে দাবি করেন তিনি।