
শেষ আপডেট: 2 February 2024 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও মহানগরের মেট্রো রেল প্রকল্প রেল মন্ত্রক অনেক দিন ধরেই একার ঘাড়ে নিচ্ছে না। কারণ মূলধন খাতে এত খরচের বোঝা বইবে না রেল। তাই পিপিপি মডেলে তৈরি হয়েছে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ইত্যাদি মেট্রো। তাই কলকাতার তুলনায় সেখানেও মেট্রোয় ভাটড়াও বেশি। কিন্তু রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউপিএ সরকারের তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই কলকাতার মেট্রো প্রকল্পগুলি রেল বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন। এ বার সেগুলির দ্রুত বাস্তবায়ণের বড় টাকা বরাদ্দ করা হল বাজেটে।
২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের জন্য বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার পর পিঙ্ক পেপার খুলে দেখা যাচ্ছে, দমদম বিমানবন্দর থেকে রাজারহাট হয়ে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের বরাদ্দ করা হয়েছে ১৭৯১ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। চলতি আর্থিক বছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ১৭০০ কোটি টাকা।
জোকা থেকে মাঝেরহাট হয়ে বিবাদী বাগ পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পে চলতি আর্থিক বছরে বরাদ্দ করা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের জন্য তা এক ধাক্কায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য এবার বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ১২০৮ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা।
বরানগর থেকে বারাকপুর ও দক্ষিণেশ্বর মেট্রো প্রকল্পের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এই প্রকল্পের জন্য এবারের বাজেটেও আগের মত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর হয়ে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের জন্য অন্তর্বর্তী বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন নির্মলা সীতারামন। চলতি আর্থিক বছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৩০৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের জন্য অন্তবর্তী বাজেটে ৯০০ কোটি টাকার সামান্য কিছু বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।
রেল কর্তাদের মতে, বরাদ্দের বহর থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তা হল রেল মন্ত্রক অগ্রাধিকার স্থির করে ফেলেছে। বিমানবন্দর থেকে রাজারহাট হয়ে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত মেট্রোর কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। নিউ গড়িয়া থেকে রুবির মোড় পর্যন্ত লাইন ও স্টেশনের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এবার রুবির মোড় থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কাজের যে গ্যাপ রয়েছে সেটা দ্রুত শেষ করতে চাইছে রেল। সেই কারণেও পর পর দু’বছরে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল।
একই ভাবে জোকা-বিবাদী মেট্রোর জন্যও পর পর দু’বছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হল। অর্থাৎ এই দুই মেট্রো প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে রেল মন্ত্রকের। না হলে যত সময় পেরিয়ে যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে ততই প্রকল্প বাবদ খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, লোকসভা ভোটের আগে মেট্রোর জন্য মোটা বরাদ্দ করে তার রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ারও চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তাঁদের ভাষণে এ কথা তুলে ধরতে পারেন।
তবে তারকেশ্বর-মগরা নয়া লাইন, দীঘা-জলেশ্বর,কালিয়াগঞ্জ-বুনিয়াদপুর, সাঁইথিয়া-তারাপীঠ তৃতীয় লাইন, তারাপীঠ-রামপুরহাট ডাবলিং, পাঁশকুড়া-খড়্গপুর ডাবলিং, কালীনারায়ণপুর-শান্তিপুর ডাবলিংয়ের জন্য নামমাত্র বরাদ্দ করায় বাংলার শাসক দল ইতিমধ্যে সমালোচনা শুরু করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা করা বালুরঘাট-হিলি নতুন লাইন প্রকল্পটিতেও এবার বরাদ্দের পরিমাণ কমেছে। চলতি আর্থিক বছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রায় ৩১০ কোটি টাকা। তা কমিয়ে এবারের বাজেটে দেওয়া হয়েছে ২১০ কোটি টাকা। তবে রেল দাবি করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউপিএ সরকারের থাকার সময়ে অর্থাৎ দ্বিতীয় ইউপিএ জমানায় বাংলায় রেল প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দের হয়েছিল বছরে গড়ে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।