শহরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মেট্রোর এই ক্রমাগত সমস্যায় হতাশ সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বহু নিত্যযাত্রী।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 10 July 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহের জলযন্ত্রণা কাটতে না কাটতেই এ সপ্তাহেও মেট্রো পরিষেবায় বড়সড় ধাক্কা। ফের অফিস টাইমে বিপর্যস্ত শহরের লাইফলাইন (Kolkata Metro)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দমদম থেকে কবি সুভাষ রুটে একের পর এক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে চলতে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা (Passengers)।
বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে বাড়তে থাকে যাত্রীদের ভিড়। অফিস কিংবা স্কুল-কলেজে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। কারও বক্তব্য, “প্রতিদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার বুঝি মেট্রোও লোকাল ট্রেন (Local Train) হয়ে গেল!”
মেট্রো রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ নোয়াপাড়া কার্শেডের থার্ড লাইনে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে রেক ছাড়তে পারেনি ট্রেন। সকাল ৮টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নোয়াপাড়া থেকে রেক চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। যদিও পরে মেট্রোর তরফে দাবি করা হয়, সমস্যা মিটে গিয়েছে এবং পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে।
তবে সেই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিচ্ছেন যাত্রীরা। অনেকের অভিযোগ, রেক ছাড়ার পরও একাধিক স্টেশনে ৫-১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেছে ট্রেন। কেউ কেউ বলছেন, কবি সুভাষ থেকে রবীন্দ্র সরোবর যেতে সময় লেগেছে প্রায় দ্বিগুণ। কেউ বলছেন, দক্ষিণেশ্বর থেকে পার্ক স্ট্রিট যেতে দেড়গুণ সময় লেগেছে।
এই ঘটনা নিছক বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। গত সপ্তাহেই (শনিবার) জল জমে মেট্রো পরিষেবায় বড়সড় বিভ্রাট ঘটে। যতীন দাস পার্কে নিউ গড়িয়া-মুখী একটি রেক খারাপ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল ডাউন লাইনের ট্রেনগুলি। শুধু তাই নয়, কয়েকদিন আগে অতিভারী বৃষ্টিতে সুড়ঙ্গপথে জল জমায় বন্ধ রাখতে হয়েছিল ময়দান থেকে গিরিশ পার্ক পর্যন্ত আপ লাইনের চলাচল।
মেট্রো সূত্রের খবর, সেন্ট্রাল ও চাঁদনি চক স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে জল জমার কারণেই সেই সময় ঝুঁকি না নিয়ে পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও যাত্রীদের দাবি, পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি থাকলে বৃষ্টি তো শুধু অজুহাত।
শহরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গণপরিবহণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মেট্রোর এই ক্রমাগত সমস্যায় হতাশ সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বহু নিত্যযাত্রী। বারবার ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’ অথবা ‘জল জমার কারণে পরিষেবা বিঘ্ন’ শুনতে শুনতে প্রশ্ন উঠছে— এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আদৌ হবে তো? আপাতত মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু যাত্রীদের মনে প্রশ্ন, আগামী সপ্তাহে আবার কোন অজুহাতে থমকে যাবে শহরের শিরা-উপশিরা?