
মনোজ পন্থ
শেষ আপডেট: 16 January 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোসাবায় বায়ো মাস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে কালিম্পংয়ে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট। কলকাতায় রুফ টপ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে থেকে শুরু করে নিউটাউনের সোলার হাউজিং কমপ্লেক্স। সবুজ পৃথিবী তৈরির মিশনে শুধু ভারত নয়, এশিয়াতেও প্রথম নজির গড়েছে বাংলা। নিউটাউনে পরিবেশ, অরণ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক আয়োজিত সেমিনারে এভাবেই সবুজায়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।
আজকের আলোচনায় প্রধান অতিথির আসনে ছিলেন মনোজ। বক্তব্যের গোড়াতেই তিনি বাংলার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন। দক্ষিণে সুন্দরবন থেকে উত্তরে তরাই অঞ্চল—ভূসম্পদের কমতি নেই। অথচ প্রকৃতির এই অকৃপণ দানের মধ্যেও ধেয়ে এসেছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মনোজ বলেন, গত চার বছরে মোট পাঁচটি সাইক্লোনের (আমফান, বুলবল, ইয়াস, দানা, ফণী) সাক্ষী এই রাজ্য। উত্তরে সিকিমে গলছে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে ভূমিধস। দক্ষিণে সুন্দরবনের সামুদ্রিক এলাকায় ভূমিক্ষয় প্রকট সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এই সূত্রেই রাজ্যের মুখ্যসচিব বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতা জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা স্রেফ জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা নয়, এটা উন্নতি সংক্রান্ত কর্মসূচিরও অঙ্গ। জলবায়ুর সমস্যাকে আরও মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে যাতে সাধারণ মানুষদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয়।‘
রাজ্য সরকার এই নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘জল ধরো জল ভরো’ কর্মসূচির উল্লেখ করেছেন। যেখানে জলের সংকট মেটাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে জল সংরক্ষণ শুরু হয়েছে।
একইভাবে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় সাইক্লোন বয়ে যাওয়ার পর সুন্দরবন ডেভলাপমেন্ট বোর্ড এবং সুন্দরবন ডেভলাপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট যেভাবে কাজ করেছে, তাকেও আলোচনায় এনেছেন পন্থ। উল্লেখ্য, জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত লড়াইয়ে সুন্দরবনকে ‘প্রথম সারির যোদ্ধা’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। সেখানকার উন্নয়ন পর্ষদ যেভাবে ম্যানগ্রোভ রেস্টোরেশনের মাধ্যমে ভূমিক্ষয় রোধ করেছে ও বন্যার সমস্যা মিটিয়ে ইকো-টুরিজমের পরিসর তৈরি করেছেন, সেই বিষয়টিও বক্তব্যে উঠে এসেছে।