
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 June 2024 14:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত দু'দিন ধরেই বুলডোজার অভিযান চলেছিল কলকাতা ও আশপাশের নানা এলাকায়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ফুটপাত জবরদখল নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করার পরেই রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল পুরসভা ও পুলিশ। কিন্তু আজ, বৃহস্পতিবার নবান্নে ফের মিটিং করে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, এভাবে বুলডোজার চালিয়ে রাতারাতি হকার উচ্ছেদ তিনি চাননি। বললেন, 'হকারদের আমি ভালইবাসি।'
এদিন শহরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নির্দিষ্ট পলিসি ঠিক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গড়ে দেন কমিটিও। স্পষ্ট নির্দেশ দেন, হকারদের রুটিরুজি রক্ষা করেই যা করার করতে হবে সরকারকে। এ জন্য হকারদেরও তিনি একমাস সময়ও দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে কোনও উচ্ছেদ হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী এদিন নির্দেশ দেন, গত দু'দিনে যে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের একটা তালিকা তৈরি করতে হবে। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা কিনা তা দেখে, তাঁদের সত্যিই আর কোনও রোজগারের পথ আছে কিনা সে কথা বিবেচনা করে, দরকারে অন্য জায়গায় দোকান করতে দিতে হবে।
তিনি বলেন, 'হকার উচ্ছেদ আমার লক্ষ্য নয়। আমি হকারদের যথেষ্ট ভালবাসি। রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা ঘটলে, ইভটিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে, হকার ভাইরা সবার আগে এগিয়ে যান। ফুটপাতে ৫০০০ টাকার জিনিস ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়।' মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'যেদিন সিপিএমের আমলে অপারেশন সানশাইন করে সব ভেঙে দিচ্ছিল, তখন আমি ওদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।'
তাই হকারমুক্ত ফুটপাত গড়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমি একটা সিস্টেম তৈরি করতে বলেছি। হকারিটাও একটা ব্যবসা। তাঁদের পরিবারের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। যত এরকম হকারদের বাজার আছে, তার একটা লিস্ট হবে। বেশি খরচ হয় না, এক-দেড় কোটি খরচ করলে একটা ভাল মার্কেট হয়ে যাবে। আমি প্ল্যান হাতে পেলে একটা ফান্ড অ্যালট করতে পারি। গরিব মানুষদের আনাজ বিক্রির জন্যও বাজার করে দেওয়া যায়। হকার জোন বিল্ডিং, হকার স্টল এবং বাজার তৈরি করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি হকারদের বসার জায়গা দেব। কিন্তু কেউ যদি বলে গ্র্যান্ডের পাশেই বসব, তা হবে না। আজ থেকে সার্ভে শুরু হবে হাতিবাগান, গ্র্যান্ডের সামনে, নিউমার্কেটের সামনে, কর্পোরেশনের সামনে। অফিসারদের বলছি, দেখুন কীভাবে সর্টআউট করা যায়, সিস্টেমেটিক করা যায়।'
গত দু'দিন ধরে চলা উচ্ছদপর্ব মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, 'আমি বুলডোজার হাতে নিয়ে যেতে বলছি না। ববি, মলয় (মজুমদার), অরূপ, অতীন, দেবাকে বলছি এটা দেখতে।'
তিনি বলেন, 'অন্য জায়গায় বসতে হবে দরকার হলে। লোকে সব বাজারেই যায়। আমরা দরকারে বড় বিল্ডিং করে দেব। রাস্তার হকারদের একতরফা দোষ না দিয়ে, কিছু বিল্ডিং তো আমরা করতে পারি। বা বাজার হয়তো আছে, দোতলা, সেটাকে তো আমরা চারতলা করতে পারি। এই কাজের একটাই ডিপিআর হবে। এমন নয় যে আলাদা আলাদা এলাকার জন্য আলাদা আলাদা ডিপিআর করা হবে আর টাকা খাওয়া হবে।'
এর পরে তাঁর নির্দেশ, 'আমি তিনমাস সময় দিচ্ছি হকার জোন করার জন্য। দয়া করে আমার কাছে প্ল্যানটা পাঠান। রাজীব একটা পোর্টাল তৈরি করবে। কোথায় হকিং জোন হবে না হবে।'
সরকারি জমি জবরদখল নিয়ে সোমবার বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর কলকাতা, হাও়ড়া, বিধাননগরে হকার ও জবরদখল উচ্ছেদ শুরু হয়ে যায়। হকার তুলতে কোথাও কোথাও পে-লোডার ও বুলডোজার নামানো হয়। আজ ফের সমস্ত পুরসভার মেয়র, জেলা শাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বৈঠক ডাকেন।
সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগে টাকা নিয়ে রাস্তায় হকার বসাবে, তার পর বুলডোজার দিয়ে তুলে দেবে। এ আমার নীতি নয়। হকারদের জীবন ও জীবিকার জন্য রাজ্যে আইন রয়েছে। ১০৪৫টি ন্যাচারাল মার্কেট। ৪৭৮৭ হেরিটেজ মার্কেট চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্যের ১২৮টি আর্বান লোকাল বডি এলাকায় হকার ভেন্ডিং কমি়টি তৈরির কথা বলা হয়েছে। এবার সেই কমিটিকে নজর রাখতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'হকার বাজার দেখতে সুন্দর করতে হবে। ফায়ার ফ্রি মেটিরিয়াল দিয়ে স্টল করে দিন। ববিকে বলছি, স্টলগুলোর জন্য মেটেরিয়াল রাখার আলাদা ব্যবস্থা করা হোক, যেখানে সবাই তাদের জিনিসপত্র রাখবে। একটা ডেডিকেটেড বিল্ডিংয়ে তারা তাদের জিনিস রাখবে। একটা সিস্টেম তৈরি করতে হবে। প্রত্যেকটা হকার জোনের পাশে একটা করে বিল্ডিং থাকবে, যেখানে হকার ভাইরা তাদের জিনিস রাখবে।'
এদিন হকারদের সমর্থনে তিনি আরও বলেন, 'কাউকে বেকার করে দেওয়ার অধিকার আমার নেই। লক্ষ লক্ষ মানুষ কিন্তু হকারি করে খায়।'