
শেষ আপডেট: 13 April 2024 22:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার পয়লা বৈশাখ, বাঙালির নববর্ষ।শুক্রবার ১৪৩১ বঙ্গাব্দের নতুন যাত্রা শুরু। প্রতি বছরের মতো এবারও পয়লা বৈশাখের ঠিক আগের দিন কালীঘাটে পুজো দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পর নিজের হাতে আরতিও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্দিরে পুজো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সমস্ত রাজ্য, সমস্ত দেশের মানুষকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। সর্ব ধর্ম, সর্ব বর্ণ, সর্ব শ্রেণির মানুষজনকে শুভ কামনা। কাল আমাদের বাংলার প্রতিষ্ঠা দিবসও আছে, সেই উপলক্ষ্যে সকলকে অভিনন্দন জানাই। আমি প্রতি বছর পয়লা বৈশাখের আগের দিন আসি, পুজো দিই। মন্দিরে এখন কাজ চলছে, স্কাইওয়াকের কাজও হচ্ছে। এরপরদের হকারদের এনে বসাতে হবে, সব কাজটাই সিস্টেমের মধ্যে হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে আমরা এই কাজ করছি। মোট ২০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে এর জন্য। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাজ আমরা করেছি, দিঘাতে জগন্নাথধামের কাজ ভালভাবে হয়েছে। আমরা চাই সর্ব ধর্মের মানুষ শান্তিতে, সমৃদ্ধিতে সব দিনগুলো কাটাক।"
বেশ কয়েক বছর ধরে চৈত্রের শেষ দিনে মমতাকে কালীঘাটে পুজো দিতে দেখা যায়। এমনকী লকডাউনের সময়েও এই ধারাবাহিকতার নড়চড় হয়নি। শনিবারও তিনি পৌঁছে যান কালীঘাট মন্দিরে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নববর্ষের প্রাক্কালে নকুলেশ্বর ভৈরব মন্দির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিবের পুজোর রীতি অনুযায়ী দুধ, বেলপাতা দিয়ে প্রার্থনা করেন।
শনিবার দুপুরে জলপাইগুড়িতে নির্মলচন্দ্র রায়ের সমর্থনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার জাবরাভিটায় সভা করেন মমতা। সেখান থেকে বিকেলে তিনি কলকাতায় ফেরেন। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই শনিবার সন্ধে সাড়ে ছ'টা নাগাদ কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছে যান মমতা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে মন্দির চত্বর ঘিরে ছিল আঁটসাটো নিরাপত্তা।
কালীঘাট মন্দির সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর আসার খবর আগে থেকেই ছিল৷ তাছাড়া প্রতি বছরই এই দিনে মমতা কালীঘাটে আসেন, তাই প্রস্তুতি অনেকটা সেরেও রেখেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ৷ নির্দিষ্ট সময় অন্যান্য দর্শনার্থীদের পুজো দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল৷ নকুলেশ্বর মন্দিরের গর্ভগৃহের ভিতরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন মমতা৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাতে আরতিও করেন৷
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে নতুন রূপে সেজে উঠেছে কালীঘাট মন্দির। তৈরি হচ্ছে স্কাইওয়াক। সোনার পাতে মুড়ছে কালীঘাট মন্দিরের তিনটি চূড়া। বিগ্রহের গর্ভগৃহ, ভোগঘর, নাটমন্দির, শিবমন্দির, কুণ্ডুপুকুর থেকে শুরু করে মন্দিরের চাতাল, ভিতর এবং বাইরের প্রাচীর সহ গোটা মন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে জোরকদমে। দক্ষিণেশ্বরের আদলে কালীঘাটে তৈরি হচ্ছে স্কাইওয়াক।