রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানালেন, এ বছর যে সংগীত অ্যালবামের উদ্বোধন হয়েছে, তার প্রতিটি গানের কথা ও সুরকার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর। এর উত্তরে হাসিমুখে মমতা বললেন, “আমি তো শিল্পী নই।"

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 21 September 2025 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আমাদের ছোটবেলায় দুর্গাপুজো (DURGAPUJA 2025) মানে চারটে দিন ছিল। ২০১১ সালে বাংলায় মা-মাটি মানুষের সরকার আসার পর, সরকারের উদ্যোগে, প্রচেষ্টায় যেভাবে সর্বপ্রিয় উৎসবের প্রসার ঘটেছে।" তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র শারদীয়া সংখ্যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গতি পেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা এই কথাগুলো দিয়ে। তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)।
রোববারের অনুষ্ঠানে ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, "এবছর ক্লাবগুলোকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকাই নয়, বিদ্যুতের ৮০ শতাংশ মকুব করা হয়েছে। তাছাড়াও কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন খরচ, দমকল সবটাই নিখরচা করে দেওয়া হয়েছে। সবার পুজো ভাল কাটুক।"
গান নিয়েও এদিন বিশেষ মুহূর্ত তৈরি হল মঞ্চে। রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানালেন, এ বছর যে সংগীত অ্যালবামের উদ্বোধন হয়েছে, তার প্রতিটি গানের কথা ও সুরকার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর। এর উত্তরে হাসিমুখে মমতা বললেন, “আমি তো শিল্পী নই। ছোটবেলায় একটু গান শিখেছিলাম। আজও শুধু কথা আর সুর দিয়ে কিছু বলতে পারি। গলা খুবই খারাপ।”
তবে ইন্দ্রনীল সেন পাল্টা মন্তব্য করলেন, “রাজনীতির বাইরে উনি অসাধারণ গীতিকার, সুরকার। আবার ছবিও আঁকেন দারুণ।” শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ইন্দ্রনীলকে বলেন, “তুমি গান ধরো, জাগো দুর্গা ধরো।”
এদিন মমতা বলার আগেই বক্তব্য রাখেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "এখন মহালয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তায় ঠাকুর দেখতে নেমে পড়েন। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে যান। তার সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় যত ক্লাব রয়েছে, তাদের এই অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন। দুর্গাপুজোর প্রসার ঘটিয়েছেন। মহালয়া মানেই শুভ শক্তির আবির্ভাব এবং অশুভ শক্তির বিনাশ। আমি মায়ের কাছে প্রার্থনা করি সকলকে ভাল রাখুন। জয় হোক বাঙালির, জয় হোক বাংলার।"
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, "যারা বাংলাকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করে বাংলার মাটিকে কলুষিত করতে গত চার পাঁচ বছর আগে বাংলাকে অপমানিত করতে বলে গেছিল যে এখানে পুজো হয় না, আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে আমাদের রাজ্য সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ইউনেস্কো ইনট্যাজিবল হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছে। এটা আমাদের সকলের বাড়তি প্রাপ্য এবং পাওনা।"