
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 25 October 2024 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সারারাত নবান্নেই ছিলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সবসময় কড়া নজর রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু পরেই ওড়িশার ভিতরকণিকা ও ধামারার কাছে ল্যান্ডফল করেছে ঘূর্ণিঝড় 'দানা'।
পুরো পরিস্থিতিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এদিন বারবার রাজ্যে অশান্তির আশঙ্কাপ্রকাশ করে সবাইকে সাবধান হতে বলেছেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সারারাত সবাই একসঙ্গে খুব ভাল কাজ করেছেন। কিছু কিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবটা দেখে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।’
মমতা এরপরই কী কী করতে হবে তা প্রশাসনিক আধিকারিকদের বুঝিয়ে দেন। স্পষ্ট জানান, সবসময় পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে সবসময় থাকতে হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বারবার ত্রাণ শিবিরে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন 'দ্রুত দুর্যোগ কেটে যাবে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবরকম পরিষেবা পৌঁছে দিতে যেন দেরি না হয়।’ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির কারণে বেশকিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত সে সব জায়গা পরিদর্শন করে মেরামতির নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে জমা জলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় পুরসভাগুলিকেই বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, লাগাতার বৃষ্টির কারণে এমনিতেই বন্যা পরিস্থিতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তারওপর লাগাতার জল ছেড়ে ডিভিসি পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিচ্ছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ভেসে গেলেও এক পয়সা দেওয়া হয় না। ’
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে লাগাতার নজরদারির কথা বললেও মুখ্যমন্ত্রী বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বেশি করে নজর দিতে হবে। দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার দিকে বেশি নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এক জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। খুবই দুর্ভাগ্যজনক। উনি বাড়িতে কেবল লাইনের তার নিয়ে কাজ করছিলেন। প্রশাসনকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে সবরকম সাহায্যও করা হবে।’
এদিন বারবার রাজ্যে অশান্তির আশঙ্কা শোনা গেছে মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি বারবার পুলিশকে আরও কড়া হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামনেই কালীপুজো। কিছু দুষ্টু লোক রাজ্যে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টায় আসে। ওঁদের আমি নেতা বলে মনে করি না। কিন্তু সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুষ্টু লোকেদের সব প্ল্যান ভেস্তে দিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সারারাত নবান্নে তদারকির পর শুক্রবারও নবান্নে থেকে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছেন মমতা। সবসময় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, শনিবার অবধি সবকিছু কড়া নজরে রাখতে হবে। বিপর্যস্ত এলাকায় রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে আরও কয়েকদিন মোতায়েন রাখা হবে।