
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 June 2024 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিন ধরে হকার উচ্ছেদ নিয়ে তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল পুরসভা ও পুলিশ। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় যে বিরক্তি ছিল ফুটপাত জবরদখল করা নিয়ে, তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল এই অতিসক্রিয়তায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, এভাবে বুলডোজার চালিয়ে রাতারাতি হকার উচ্ছেদ তিনি চাননি। আজ, বৃহস্পতিবার নবান্নে ফের মিটিং করে এই নিয়ে একটি নির্দিষ্ট পলিসি ঠিক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গড়ে দিলেন কমিটিও। নির্দেশ দিলেন, হকারদের রুটিরুজি রক্ষা করেই যা করার করতে হবে সরকারকে।
এদিন শহরের বিভিন্ন ফুটপাতগুলির হকারদের সরানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের নতুন করে কোথায় বসানো যায়, তাই নিয়ে আলোচনাও করেন। বিশেষ করে উল্লেখ করেন ধর্মতলায় গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাতের কথা। সেখানে হকার বসা উচিত নয় বলেই জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'গ্র্যান্ডে অনেক ফিল্মস্টাররা যায়, হাইপ্রোফাইল লোকেরা যায়। সেখানে এত হকার অ্যালাও করলে মুশকিল, যদি কোনও ঘটনা ঘটে! সিকিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। হয়তো অন্য কেউ ঘটিয়ে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে। সেই সুযোগ কেন দেব? তখন তো চাল, চুলো দুটোই যাবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি হকারদের বসার জায়গা দেব। কিন্তু কেউ যদি বলে গ্র্যান্ডের পাশেই বসব, তা হবে না। আজ থেকে সার্ভে শুরু হবে হাতিবাগান, গ্র্যান্ডের সামনে, নিউমার্কেটের সামনে, কর্পোরেশনের সামনে। অফিসারদের বলছি, দেখুন কীভাবে সর্টআউট করা যায়, সিস্টেমেটিক করা যায়।'
গত দু'দিন ধরে চলা উচ্ছদপর্ব মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, 'আমি বুলডোজার হাতে নিয়ে যেতে বলছি না। ববি, মলয় (মজুমদার), অরূপ, অতীন, দেবাকে বলছি এটা দেখতে।'
তিনি বলেন, 'অন্য জায়গায় বসতে হবে দরকার হলে। লোকে সব বাজারেই যায়। আমরা দরকারে বড় বিল্ডিং করে দেব। রাস্তার হকারদের একতরফা দোষ না দিয়ে, কিছু বিল্ডিং তো আমরা করতে পারি।'
শুধু গ্র্যান্ড নয়, ধর্মতলার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে হকারদের জন্য নয়, মিটিংমিছিলের জন্য। তিনি বলেন, 'ধর্মতলা ব্লক করা যাবে না। আমরা বছরে একবারই (২১ জুলাই) ওখানে প্রোগ্রাম করি, কারণ ওখানে কিছু মানুষের দেহ পড়ে আছে। সবকিছু এক নয়। এখন তো সিপিএম, বিজেপিও ওখানে করতে চাইছে। এটা কোর্টকেও বুঝতে হবে। আমাদেরও কোর্টকে বোঝাতে হবে। যদি কোর্টের ওখানে একগাদা লোক গিয়ে বসে পড়ে তখন কি হবে ? কেউ যদি বলে নবান্নের মধ্যে অবস্থান করবে তা হয় নাকি?'
সরকারি জমি জবরদখল নিয়ে সোমবার বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর কলকাতা, হাও়ড়া, বিধাননগরে হকার ও জবরদখল উচ্ছেদ শুরু হয়ে যায়। হকার তুলতে কোথাও কোথাও পে-লোডার ও বুলডোজার নামানো হয়। আজ ফের সমস্ত পুরসভার মেয়র, জেলা শাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বৈঠক ডাকেন।
সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগে টাকা নিয়ে রাস্তায় হকার বসাবে। তার পর বুলডোজার দিয়ে তুলে দেবে। এ আমার নীতি নয়। হকারদের জীবন ও জীবিকার জন্য রাজ্যে আইন রয়েছে। ১০৪৫টি ন্যাচারাল মার্কেট। ৪৭৮৭ হেরিটেজ মার্কেট চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজ্যের ১২৮টি আর্বান লোকাল বডি এলাকায় হকার ভেন্ডিং কমি়টি তৈরির কথা বলা হয়েছে। এবার সেই কমিটিকে নজর রাখতে হবে।'