যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেল
শেষ আপডেট: 1 December 2024 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খারাপ সময় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক ঘটনায় প্রতিদিনই খবরের শিরোনামে উঠে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। ফের মাদকাসক্তদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে মাথাব্যাথা বাড়ছে পড়ুয়াদের। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাহায্য চেয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের ঘটনা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, এক মাদকাসক্তের জ্বালায় রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন তাঁরা। অনেক সময় ভয়ে গৃহবন্দী হয়েও থাকতে হচ্ছে। তাঁকে বারবার ধরার চেষ্টা কড়লেও পালিয়ে বেড়াচ্ছে সে। যে কারণেই তার নাগাল পেতে হিমশিম অবস্থা।
২০২৩ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলে র্যাগিংয়ের জেরে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় পড়ে গেছিল। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বহিরাগত এবং প্রাক্তনীদের হস্টেলে থাকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এত নিয়ম, কমিটি গঠনের পরও একজন মাদকাসক্ত কীভাবে দিনের পর দিন হস্টেলে এমন তাণ্ডবলীলা চালিয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মেন হস্টেলের বি ব্লকের আবাসিক পড়ুয়াদের অভিযোগ, বহুদিন ধরেই এখানে থাকে মাদকাসক্ত ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু বছর আগে পিএইচডি করত। তারপর লেখাপড়া ছাড়লেও নেশাকেই সঙ্গী করে নেয়। ইদানিং তার দাপাদাপি মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়েছে। মাদকাসক্তের বিরুদ্ধে যখন তখন রুমে এসে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি জানালা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারার অভিযোগ উঠছে। এমনকি নেশার জন্য মোটা টাকা দাবিও করছে। আর না দিলে চিৎকার জুড়ে দিচ্ছে। ঘরে ঢুকে রীতিমতো তছনছ করে দিচ্ছে সে।
অভিযোগের পর শনিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফ স্টুডেন্টস হস্টেলে গিয়ে ওই মাদকাসক্তের সঙ্গে কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত জানান, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গত মাসে পড়ুয়াদের রাজনৈতিক রং দেখে নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের বিরুদ্ধে। অধ্যাপকরা খাতা না দেখেই নম্বর দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এ নিয়ে পড়ুয়ারা দফায় দফায় বিক্ষোভ আন্দোলনও করছেন। এরই মাঝে নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের সোমবার বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা ওই বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধানের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে এই বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিন সদস্যের কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করে একটি রিপোর্ট তৈরি করবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে বলে খবর।