Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১৪ বছর পর আসছেন মেসি! রাজনীতি থেকে যুবভারতী, কলকাতার খোলনলচে বদলে গেলেও অটল কেবল শাসনের আসন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শাসনভার গ্রহণ করলেন। আর তার চার মাসের মাথায় কলকাতায় পা রাখলেন ফুটবলের (Football) রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Lionel Messi Kolkata)। সেই দিনের পর কেটে গিয়েছে ১৪ বছর।

১৪ বছর পর আসছেন মেসি! রাজনীতি থেকে যুবভারতী, কলকাতার খোলনলচে বদলে গেলেও অটল কেবল শাসনের আসন

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 17 October 2025 14:04

শুভম সেনগুপ্ত

২০১১ সাল। ১৩ মে ছিল রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ। সেদিনই রাজ্যের রাজনীতিতে ইতিহাস লেখা হয়েছিল। ভেঙে পড়েছিল টানা ৩৪ বছরের বামদুর্গ। সেদিনের ভোট ফলাফলের পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শাসনভার গ্রহণ করলেন। আর তার চার মাসের মাথায় কলকাতায় পা রাখলেন ফুটবলের (Football) রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Lionel Messi Kolkata)। সেই দিনের পর কেটে গিয়েছে ১৪ বছর। গঙ্গা থেকে তিস্তা, মাতলা থেকে শিলাবতী অগণিত সময় ও স্মৃতির স্রোত বয়ে গেছে। চলতি বছর ডিসেম্বরে ফের একবার শহরে আসছেন বিশ্বকাপজয়ী মেসি। ১৪ বছর আগের সেই সফরটা ঠিক কেমন ছিল?

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের (Yuba Bharati Stadium) সেই রাত এক ঐতিহাসিক রাত। যেদিন মাঠে নেমেছিলেন মেসি। প্রতিপক্ষ ভেনেজুয়েলা। দর্শকাসনে গর্জে উঠেছিল শহর। গোল না পেলেও, নিজের জাদুকরী ছোঁয়ায় মাতিয়ে রেখেছিলেন সমগ্র গ্যালারি। তাঁরই তীক্ষ্ণ বাঁক নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওটামেন্ডির দুরন্ত হেডে জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা (Argentina)।

তবে ম্যাচের বাইরেও অনেক গল্প ছিল। শহরের বুকে মেসির উপস্থিতি যেন উৎসবের আবহ তৈরি করেছিল। প্র্যাকটিসের মাঠে তাঁর প্রতিটি ছোঁয়া, হোটেলের লবিতে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি, সবই ছিল এক কিংবদন্তিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ। কলকাতা সেই ক'দিন মেসিময়, যেন ফুটবলের রাজপুত্র নিজেই নেমে এসেছিলেন গঙ্গার তীরে।

মেসির সবচেয়ে অবাক করা দিকটা ছিল অভিযোগ শব্দটা তাঁর অভিধানেই ছিল না। ততদিনে দু’দু’টো বিশ্বকাপ (২০০৬ ও ২০১০) খেলে ফেলেছেন, দিয়েগো মারাদোনার মতো কিংবদন্তির অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, অলিম্পিক্সে জিতেছেন সোনাও। তবু এক বিন্দু অহংকার নয়। সম্পূর্ণ সহজ-সরল, নিরহংকার মানুষ।

কলকাতায় যখন দু’দিনের সফরে এসেছিলেন, তাঁকে একবারও বিরক্ত হতে দেখা যায়নি। কেউ সই চাইলে, কেউ ছবি তুলতে বললে হাসিমুখে সব সামলেছেন তিনি। সেই স্মৃতি এখনও ফুটবল প্রেমীদের মনে অমলিন।

এই ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দৃশ্যপট যতটা বদলেছে, ততটাই বদলেছে কলকাতা। প্রথম যখন মেসি কলকাতায় এলেন, সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ছিল সদ্যোজাত। এখন যখন কৈশোরে আবার ফুটবল ম্যাজিশিয়ন শহরে আসছেন। এই সময়কালে টানা তিন দফায় মমতা সরকারে থেকে নিজের শাসনক্ষমতা প্রমাণ করেছেন বারবার। কিন্তু তাঁর বিরোধী শিবিরের চিত্র পাল্টেছে একাধিকবার।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার প্রথম মেয়াদে প্রধান বিরোধী শক্তি ছিল বামফ্রন্ট, বিরোধী দলনেতা ছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র। দ্বিতীয় মেয়াদে সেই জায়গা দখল করে কংগ্রেস। বামেরা নেমে আসে তৃতীয় স্থানে, আর কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান হয়ে ওঠেন বিরোধী দলনেতা।

তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের রাজনীতিতে আসে বড় পরিবর্তন। বাম ও কংগ্রেস— দুই পুরনো শক্তিই বিধানসভায় শূন্য আসনে থেমে যায়। প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। আর সেই সময় থেকেই রাজ্যের নতুন বিরোধী দলনেতা হয়ে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী।

আরও একটা বড়পার্থক্য হল, তখনের যুবভারতী আর এখনের মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ। সেই সময় স্টেডিয়ামের মাঠে ছিল অ্যাস্ট্রো টার্ফ। এখনকার মতো আধুনিক অবকাঠামো তখনও গড়ে ওঠেনি। ২০১৭-র অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের আগে যে নতুন সাজে সেজেছে স্টেডিয়াম, তা তখন কল্পনাতেও ছিল না। সিমেন্টের ধাপেই বসে দর্শকদের খেলা দেখতে হত। সেই পুরনো যুবভারতীতেই নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। খেলেছেন অ্যাস্ট্রো টার্ফে, কিন্তু একটিবারও বিরক্তি প্রকাশ করেননি।

তখন তিনি থাকতেন স্টেডিয়ামের পাশের হোটেলে। পাশের ছোট্ট মাঠেই নিয়মিত প্র্যাক্টিস করতেন। প্রতিটি মুহূর্তে ছিলেন শান্ত, সংযত ও মনোযোগী। কারও মনে হয়নি এটা কোনও প্রদর্শনী ম্যাচ। মেসির চোখেমুখে ছিল খেলার প্রতি গভীর নিষ্ঠা, যেন এও এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক লড়াই।  

ফুটবলের সেই মহানায়কের প্রতিভা যে একদিন বিশ্বকে আলোয় ভাসাবে, তার আভাস কলকাতা দেখেছিল অনেক আগেই সেই ১৪ বছর আগে। আজ, যখন আর্জেন্তিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তখন বাঙালি ফুটবলপ্রেমীর মনে ফিরে আসে সেই ২ সেপ্টেম্বর ২০১১-র স্মৃতি। মহানগরের মানুষ তখনই বুঝেছিল, এই ছেলে পায়ের জাদুতে একদিন ইতিহাস লিখবে। লেখাও হয়েছে। এবার ডিসেম্বরে তাঁর আগমনের চিত্রটা যেন দেজাভু হয়ে ফিরে আসছে আপামর কলকাতাবাসীর মনে।


```