বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। প্রায় ১৫ দিন আগে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েকদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে ফেরেন। সেখানেই আজ জীবনের ইতি।

প্রয়াত ডা. মণি ছেত্রী
শেষ আপডেট: 6 April 2026 00:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের প্রথম বৃষ্টিমুখর দিনেই নিভে গেল এক আলোকস্তম্ভ। প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ মণি ছেত্রী (famous cardiologist Mani Kumar Chetri)। দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর (Doctor Mani Kumar Chetri death)।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। প্রায় ১৫ দিন আগে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে মণিপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েকদিন চিকিৎসার পর বাড়িতে ফেরেন। সেখানেই আজ জীবনের ইতি (Doctor Mani Kumar Chetri news)।
১৯২০ সালে দার্জিলিঙে জন্ম ডাঃ ছেত্রীর। দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনে তিনি শুধু একজন সফল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞই নন, ছিলেন দক্ষ প্রশাসক এবং অনন্য শিক্ষকও। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
১৯৭৪ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন।
চিকিৎসা জগতে তাঁর অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনই ব্যক্তিজীবনেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত প্রেরণা। শতবর্ষ পেরিয়েও তাঁর কর্মোদ্যম ছিল বিস্ময়কর। এখনও নিয়মিত পড়াশোনা, নোট নেওয়া, ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা—সবই চলত একই উদ্যমে। নতুন কোনও মেডিক্যাল বই প্রকাশ পেলেই তা সংগ্রহ করে মন দিয়ে পড়তেন। তাঁর টেবিলে সাজানো থাকত ফার্মাকোলজি ও মেডিসিনের নানা বই, খাতায় খাতায় হাতে লেখা নোট।
শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনকেই দীর্ঘায়ুর মূলমন্ত্র বলে মনে করতেন ডাঃ ছেত্রী। ভোর চারটেয় ঘুম থেকে ওঠা, নিয়মিত হাঁটা, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার—এই ছিল তাঁর অভ্যাস। নিজেই বলতেন, “আমিষ-নিরামিষ সব খাই, কিন্তু ঘড়ি ধরে খাই। আর হাসিখুশি থাকি, জীবনকে ভালোবাসি।” ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞান যে জিন-থেরাপির উপর নির্ভর করবে, সে কথাও বহু আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি।
তাঁর ছাত্রছাত্রীরা আজ ছড়িয়ে রয়েছেন দেশ-বিদেশে। অনেকেই অবসর নিয়েছেন, তবু তাঁদের কাছে ‘স্যার’ ছিলেন চিরকালীন পথপ্রদর্শক। সকলের সঙ্গে ভদ্রতা, করজোড়ে নমস্কার—এই সহজ মানবিক আচরণই তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল।
দীর্ঘ জীবনে তিনি সাক্ষাৎ পেয়েছেন ইতিহাসের বহু ব্যক্তিত্বের—ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
একটি শতাব্দী পেরিয়ে যাওয়া জীবন আজ থেমে গেল। কিন্তু তাঁর কর্ম, দর্শন ও জীবনযাপনের শৃঙ্খলা আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার উৎস।