
এসআই অনুপ দত্ত। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 September 2024 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনে এপর্যন্ত প্রথম ও একমাত্র অভিযুক্ত, সঞ্জয় রায়কে নিয়ে নিত্যনতুন যা সব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে চমকে গেছেন সকলে। তার উপর এই সিভিক ভলান্টিয়ারের কীর্তি আলাদা করে মুখ পুড়িয়েছে কলকাতা পুলিশেরও। এমনকি পুলিশ ব্যারাক থেকেই গ্রেফতার হয়েছে সে। এবার সিবিআই তদন্তে সামনে এল এক নির্দিষ্ট পুলিশ অফিসারের নামও। অভিযোগ, তাঁরই মদতে সঞ্জয়ের এই বাড়বাড়ন্ত।
জানা গেছে, তিনি সাব ইনস্পেক্টর অনুপ দত্ত। সিবিআই জেরা করার পরে, ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে চাকরি থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে বলে খবর। প্রসঙ্গত, এই সাব ইনস্পেক্টরকেই সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে দৌড় পালাতে দেখা গিয়েছিল সংবাদমাধ্যমকে এড়ানোর জন্য।
৯ অগস্ট সকালে আরজি কর কাণ্ডের খবর জানাজানি হওয়ার পরে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সঞ্জয়ের গতিবিধি নজরে পড়ে পুলিশের। সময়ের হিসেবে ফুটেজ মিলিয়ে দেখা যায়, ওই সময়ে সঞ্জয় রায়ই সেমিনার রুমে ছিল অনেকক্ষণ। এর পরেই বিধাননগরে কলকাতা পুলিশের চতুর্থ ব্যাটেলিয়নের ব্যারাক থেকে সঞ্জয় কে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, অপরাধ স্বীকারও করে নিয়েছে সে।
এর পরেই তদন্তে জানা যায়, ওই পুলিশ ব্যারাকেই বেআইনি ভাবে ডেরা ছিল সঞ্জয়ের। অনুপ দত্ত নামে এক সাব ইনস্পেক্টরের মদতেই তার অবাধ যাতায়াত ছিল পুলিশ ব্যারাকে। ঘটনার তদন্তভার পাওয়ার পরেই এই অনুপ দত্তকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জেরা করে সিবিআই। তিনিই সেখানে সংবাদমাধ্যমকে দেখে দৌড়ে পালাতে গিয়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, অনুপ দত্ত আদতে বালুরঘাটের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে থাকেন কলকাতায়। অনুপবাবুকে একাধিকবার জেরা করে লালবাজার। এমনকি পলিগ্রাফ টেস্টও হয় তাঁর। তিনি পুলিশ ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য। অভিযোগ, কাজের ব্যাপারে চরম ফাঁকিবাজ ছিলেন তিনি। সঞ্জয় রায়ের মতো কয়েকজনকে ছত্রচ্ছায়ায় রেখে তাঁদের দিয়েই কাজ করাতেন। এবার তদন্তে তাঁর সঙ্গে সঞ্জয়ের কী কী যোগ প্রমাণিত হয়, সেটাই দেখার।