
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ একই ফ্রেমে
শেষ আপডেট: 5 January 2025 21:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বড়বাজারের লিট্টি চোখা উৎসবে হাজির ছিলেন তৃণমূলের এক ঝাঁক নেতা নেত্রী। সুব্রত বক্সি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজাদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে একইসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিতে দেখা গিয়েছে দলের উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী নয়না এবং দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরে সুদীপ কুণালের 'অহি নকুল' সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। স্বভাবতই কোন শর্তে এই দুই বিবাদমান নেতার সহবস্থান ঘটল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এহেন কৌতূহলের নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গত ভোটে উত্তর কলকাতার লোকসভা আসনে সত্তরোর্ধ্ব সুদীপের প্রার্থীপদ আটকাতে কুণাল শুধু চোখা চোখা বাক্যবাণই ছোড়েননি, সুদীপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'ধেড়ে শাহজাহান’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। লোকসভা ভোটের মুখে সুদীপকে কটাক্ষ করে গত বছরের ২ মার্চ টুইটে কুণাল লিখেছিলেন, সুদীপকে রোজভ্যালি থেকে বাঁচিয়ে গলায় বকলস পরিয়ে রেখেছেন মোদী।
টুইটে সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন কুণাল। এমনকী যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি সুদীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কুণাল।
টুইটে কুণাল লিখেছিলেন, "সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, এমপির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর তরফে অ্যাপলো হাসপাতালে, ভুবনেশ্বরে দেওয়া টাকার বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। তিনি যখন হেফাজতে ছিলেন, তখন তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বা তার পক্ষ থেকে হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা উচিত। যদি এটি সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এটি কয়লা কেলেঙ্কারির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং আরও তদন্তের জন্য ব্যানার্জিকে (সুদীপকে) গ্রেপ্তার করা উচিত। যদি এজেন্সিগুলি এটি এড়াতে চেষ্টা করে, তাহলে এই বিষয়ে তদন্তের জন্য আমি আদালতে যাব।"
.@dir_ed @CBIHeadquarters
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) March 2, 2024
The bank accounts of Sudip Banerjee, MP and payments on behalf of him to Apollo, Bhubaneswar must be investigated.
When he was in custody, whether a large amount paid to him or paid to hospital on behalf of him or not, that should be probed. If it is…
এহেন কৌতূহলের নেপথ্যে যথেষ্ট কারণও রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গত ভোটে উত্তর কলকাতার লোকসভা আসনে সত্তরোর্ধ্ব সুদীপের প্রার্থীপদ আটকাতে কুণাল শুধু চোখা চোখা বাক্যবাণই ছোড়েননি, সুদীপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'ধেড়ে শাহজাহান’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। লোকসভা ভোটের মুখে সুদীপকে কটাক্ষ করে গত বছরের ২ মার্চ টুইটে কুণাল লিখেছিলেন, সুদীপকে রোজভ্যালি থেকে বাঁচিয়ে গলায় বকলস পরিয়ে রেখেছেন মোদী।
টুইটে সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন কুণাল। এমনকী যদি কেন্দ্রীয় এজেন্সি সুদীপের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আদালতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কুণাল।
টুইটে কুণাল লিখেছিলেন, "সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, এমপির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং তাঁর তরফে অ্যাপলো হাসপাতালে, ভুবনেশ্বরে দেওয়া টাকার বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। তিনি যখন হেফাজতে ছিলেন, তখন তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে বা তার পক্ষ থেকে হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা উচিত। যদি এটি সত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এটি কয়লা কেলেঙ্কারির সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এবং আরও তদন্তের জন্য ব্যানার্জিকে (সুদীপকে) গ্রেপ্তার করা উচিত। যদি এজেন্সিগুলি এটি এড়াতে চেষ্টা করে, তাহলে এই বিষয়ে তদন্তের জন্য আমি আদালতে যাব।"
সম্প্রতি আরজি কর ইস্যুতে একাংশ শিল্পীকে বয়কটের প্রসঙ্গে কুণাল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতান্তর প্রকাশ্যে এসে পড়েছে।
কুণাল জানিয়েছিলেন, আরজি কর ইস্যুতে আন্দোলনে নেমে যারা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, সেই শিল্পীদের কোনওভাবেই তৃণমূল নেতাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে জায়গা দেওয়া হবে না। এমনকী এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি তাঁদের বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, ""পার্টির তরফে কেউ বলেছে? কোনও নোটিস দেখেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা আমি জেনারেল সেক্রেটারি কিছু বলেছি?" অভিষেক এও বলেন, "মুখপাত্রদের কথা দলের কথা নয়!"
২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুধু নিজের বক্তব্যে অনড়ই নয়, পরোক্ষে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকেই খারিজ করে দিয়েছিলেন কুণাল। তাঁর কথায়, "দলের একাধিক গ্রুপে আমি সার্কুলার দেখেছি। বাইরে বলতে পারব না। দলের নির্দেশ বলে লেখাও রয়েছে।"
কুণাল এও বলেন, "ওই সময় অসুস্থতার কারণে অভিষেক বাইরে ছিল। তাই সম্ভবত ও ভুল বুঝেছে, জানতে চাইলে ব্যাখ্যা দিয়ে দেব।"
দলের অভ্যন্তরে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কুণালের এহেন প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল। এবার সুদীপের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিলেন স্বয়ং কুণালই।
তবে এক মঞ্চে উপস্থিতি নিয়ে কুণাল বা সুদীপ, দু'জনের কারওরই কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। দুজনের ফোনই বেজে গিয়েছে। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।