
শেষ আপডেট: 13 November 2023 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ, এমনই পরিস্থিতি কলকাতা ও দিল্লির। বায়ু দূষণের পাল্লায় একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে। দীপাবলির রাতের পর দিল্লির বাতাসের ‘অতি বিপজ্জনক’ পরিস্থিতি। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স কোথাও কোথাও ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে। তবে পিছিয়ে নেই তিলোত্তমাও। পরিবেশ আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালীপুজোর রাতে দেদার বাজি ফেটেছে শহরেও। ফলে সকাল হতেই দেখা গেছে বাতাসের গুণমানের অতি ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বালিগঞ্জ ও যাদবপুর এলাকায় বাতাসের গুণগত মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ‘ভেরি পুওর’। এখনই একিউআই ৩০০-৪০০-র মধ্যে। রবিবার সন্ধের পর থেকে হাওড়ার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সও ২৫০ ছাড়িয়ে যায়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতায় এই সময়ে আল্ট্রাফাইন পার্টিকুলেট পিএম ২.৫-এর মাত্রা অনেকটাই বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) দূষণের যে মাপকাঠি স্থির করেছে তা বহুগুণে ছাপিয়ে গেছে শহরের দূষণ। বায়ুদূষণের যে মাত্রা আমাদের দেশে স্থির করা রয়েছে কলকাতার দূষণ তার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। আর হু-এর নির্ধারিত মাত্রার ১০ গুণ বেশি। রাজ্য পরিবেশ দফতরও জানিয়েছে, কলকাতা সহ এ রাজ্যের কয়েকটি জেলায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাতাসের গতিবিধির দিকে নজর রেখে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল সেন্টার পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড। তা থেকে এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। কলকাতার দূষণের মাত্রা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিশেষজ্ঞদের কপালে।
দূষণের নিরিখে কলকাতা দ্বিতীয় স্থানে, দিল্লির পরেই। শুধু ভাসমান ধূলিকণা (পিএম১০) ও অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণাই (পিএম ২.৫) নয়, যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় বাতাসে নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা (পিএম)-গুলি খুব সহজে মিশে যেতে পারে। কিন্তু যদি পিএম কণাগুলির ব্যাস বেশি হয় তাহলে বায়ুমণ্ডলে মিশে যেতে সময় লাগে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের বাতাসে সূক্ষাতিসূক্ষ অ্যারোসল কণার মাত্রা সাঙ্ঘাতিক বেশি। এই দূষণ-কণাগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে বাতাসের ধূলিকণাকে আশ্রয় করে বিষ-বাস্প তৈরি করে। শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা থেকে ক্যানসার, হার্টের রোগ, বহু প্রাণঘাতী অসুস্থতার জন্য বায়ুদূষণ প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী।