আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জ এলাকায়— ২৯৫ মিলিমিটার।

জলমগ্ন কলকাতা।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রবল বর্ষণে কার্যত ভেসে গেছে কলকাতা (Kolkata Rainfall)। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের অঙ্ক একেবারে আকাশছোঁয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জ এলাকায়— ২৯৫ মিলিমিটার। এর পরেই রয়েছে মুকুন্দপুর (২৮০ মিমি), গড়িয়া (২৭০ মিমি), যাদবপুর (২৫৮ মিমি), গড়িয়াহাট (২৬২ মিমি) ও কসবা (২৪৬ মিমি)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে উত্তর কলকাতার সাউথ দমদমে, মাত্র ৬১ মিমি।
বালিগঞ্জ: ২৯৫ মিমি
মুকুন্দপুর: ২৮০ মিমি
গড়িয়া: ২৭০ মিমি
গড়িয়াহাট: ২৬২ মিমি
যাদবপুর: ২৫৮ মিমি
কসবা: ২৪৬ মিমি
আলিপুর: ২৪০ মিমি
সন্তোষপুর: ২২৭ মিমি
বেহালা: ২১৫ মিমি
কাঁকুড়গাছি: ২০২ মিমি
বরিশা: ১৮৫ মিমি
নিউটাউন: ১৮৬ মিমি
পার্ক স্ট্রিট: ১৮৪ মিমি
শিবপুর (হাওড়া): ১৬৫ মিমি
বড়বাজার: ১৬২ মিমি
সল্টলেক সেক্টর ২: ১৫৪ মিমি
বাগুইআটি: ১২১ মিমি
সিন্থি: ৯৬ মিমি
সাউথ দমদম: ৬১ মিমি
এই বৃষ্টির জেরে একাধিক রাস্তায় জল জমে যায়, যানজটে ভোগেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে নেতাজি নগর এলাকায়। তা ছাড়া শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রেন বন্ধ, বহু রুটে বাস বন্ধ, ওলা উবরের সার্ভিস কম, লোডশেডিং মায় যা তা অবস্থা শহরের।
সোমবার আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস শহর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। জানানো হয়েছে, অষ্টমীর দিন পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। উত্তরবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এবারের দুর্গাপুজো কাটাতে হতে পারে টানা বৃষ্টির মধ্যেই।
কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হতে পারে। প্রথম চার দিনে ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি।
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কৃষিজীবী ও উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।
বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, বর্ধমানেও বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা।
মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রতিদিনই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকি রয়েছে।
২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশ ও পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলে সমুদ্র থাকবে উত্তাল। বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিমির বেশি হতে পারে। ফলে এই সময়ে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।