
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 August 2024 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে যে ঘটনা ঘটেছে তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিন তলার সেমিনার হল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছিল, ওই সেমিনার রুমে অর্থাৎ ক্রাইম সিনে নানা রকম পরিবর্তন ঘটেছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমে যেখানে দেখা যায়, ওই হলেই অত্যাধিক ভিড়। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। শুক্রবার অবশ্য সেই হলের ভিড়ে কারা ছিলেন সেই ব্যাখ্যা দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন জানিয়েছেন, ওই জায়গায় কোনও বাইরের লোক ছিলেন না। যারা ছিলেন তাঁরা পুলিশের লোক এবং তদন্তের জন্যই কাজ করছিলেন। ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় দু’টি ছবিও দেখান। ভিড়ের মধ্যে কারা ছিলেন তার ব্যাখ্যা দেন তিনি। বলেন, যে অংশ ঢাকা দেওয়া হয়েছে তার পিছনেই ছিল মৃতদেহ। এবার তার আশেপাশে যাঁদের দেখা যাচ্ছে তাঁরা অধিকাংশ কলকাতা পুলিশের লোক। তাঁর কথায়, যে ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে এবং সেখানে যাঁদের দেখা যাচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ভিডিয়োগ্রাফার, পুলিশ কমিশনার, ফরেন্সিক বিভাগের সদস্য, টালা থানার পুলিশ কর্মী, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ।
ঘটনার দিনের যে ভিডিও ছড়িয়েছে তাতে সন্দেহজনক তিনজনকে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের কর্তা দেবাশিস সোম ছাড়াও সন্দীপ ঘোষের দুই 'ছায়াসঙ্গী' শান্তনু দে নামের এক আইনজীবী এবং প্রসূন চট্টোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি সেখানে ছিলেন বলে দাবি। যদিও পুলিশের তরফে এমন কিছুই বলা হয়নি। তাঁরা সাফ জানাচ্ছেন, তদন্তকারীরা ছাড়া সেখানে ওই সময়ে কেউই ছিলেন না।
যদিও আরজি করের ঘটনায় পুলিশের একাধিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন আত্মহত্যা বলে পরিবারকে ফোন কেন করা হয়েছিল। তারপর এফআইআর দায়েরে কেন দেরি করা হয়। এই নিয়ে নির্যাতিতার বাবা-মাও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, কাউকে আড়াল করার জন্য এসব করা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে প্রথম থেকেই দাবি করা হয়, তাড়াহুড়ো করে প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করেছে পুলিশ। সে জন্যই ময়নাতদন্তের পরে তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করে দেওয়া হয়। এমনকি শ্মশানে ওই তরুণীর আগে আরও দু'টি দেহ থাকলেও, লাইন ভেঙে আগে তরুণীর দেহ পোড়ানো হয় বলে দাবি করা হয় পরিবারের তরফে। একই সঙ্গে, মেয়ের সঙ্গে থাকা চাদর বারবার বদলানো হয় বলেও দাবি ছিল তাঁদের। কিন্তু পরে অবশ্য কলকাতা পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চাদর বদলানোর কোনও খবর তাঁদের কাছে নেই।