
কলকাতা মেট্রো
শেষ আপডেট: 19 June 2024 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাত্রীদের সুবিধার জন্যই বিগত কয়েকদিন ধরে রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আগামী সোমবার থেকে ওই সময়ে আর মেট্রো পাওয়া যাবে না। রাত্রিকালীন পরিষেবার সময় বদল করা হচ্ছে। ২৪ জুন থেকে রাত ১১টার বদলে ১০.৪০-এ ছাড়বে শেষ মেট্রো। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে কলকাতা মেট্রোরেল।
প্রায় ২০ দিন ধরে রাত ১১টা পর্যন্ত চলছে মেট্রো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের মতে, যতটা যাত্রী হবে বলে আশা করা হয়েছিল তত যাত্রী রাতের দিকে হচ্ছে না। মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, রাতে মেট্রো চললে প্রচুর সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন এবং তাঁদের চাহিদা পূরণ করা যাবে, এই আশা নিয়ে চালু করা হয়েছিল রাতের পরিষেবা। তবে দেখা যাচ্ছে, রাতের এই পরীক্ষামূলক পরিষেবাগুলি মেট্রো যাত্রীদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হচ্ছে না। এদিকে এই পরিষেবা দিতে মেট্রো রেলের প্রচুর খরচ হচ্ছে। তাই আগামী সোমবার থেকে রাতের মেট্রোর সময় ১১টার বদলে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৪ জুন থেকে ব্লু লাইনে এই পরীক্ষামূলক মেট্রো কবি সুভাষ এবং দমদম থেকে রাত ১০.৪০টায় ছাড়বে। সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া যাবে এই পরিষেবা এবং সমস্ত স্টেশনে ট্রেন থামবে।
রাতের পরিষেবায় ঠিক কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ? কৌশিক মিত্র বলছেন, দমদম এবং কবি সুভাষের মধ্যে রাত ১১টার প্রতিটি ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা গড়ে মাত্র ৩০০। এদিকে ট্রেন চালানোর খরচ হিসাবে প্রায় ২.৭ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য খরচ হিসাবে ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আবার অনেক স্টেশনে কাউন্টার খোলা রেখে গড়ে মাত্র ১টি বা ২টি টোকেন বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ টোকেন বিক্রির হারও খুবই কম রাতের দিকে।
এই প্রেক্ষিতেই স্পষ্ট জানান হয়েছে, রাতের পরিষেবায় কোনও স্টেশনে টোকেন, স্মার্ট কার্ড ইত্যাদি বিক্রির জন্য কোনও টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে না। যাত্রীদের ইউপিআই পেমেন্ট মোড ব্যবহার করে সমস্ত স্টেশনে বসানো মেশিন থেকে টোকেন কাটতে হবে।
শহর কলকাতার অন্যতম লাইফলাইন হল মেট্রো পরিষেবা। করোনা অতিমারীর আগে শেষ মেট্রোর সময় ছিল রাত ৯.৫৫ মিনিট। কিন্তু তারপর সেই সময় এগিয়ে আসে। দমদম ও কবি সুভাষ থেকে শেষ মেট্রোর সময় হয় ৯.৪০ মিনিট। রাতের যাত্রীদের কথা ভেবেই রাত ১১টায় এই বিশেষ এক জোড়া মেট্রো পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে লাভের মুখ না দেখে পিছিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ।