
শেষ আপডেট: 22 March 2024 22:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গার্ডেনরিচ কাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দফায় দফায় বৈঠক করে বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ করার বিষয়ে চলছে চিন্তাভাবনা। ভাবা হচ্ছে নতুন আইন প্রয়োগের কথাও। তবে এবার বড়সড় বেআইনি হলে আর শুনানি নয়, সরাসরি ৪০০ (৮) নোটিস দিয়ে নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। গার্ডেনরিচের বহুতল বিপর্যয়ের পর কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা।
শুক্রবার লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে ছিলেন আইনজীবী এবং পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকেরাও। সূত্রের খবর, পুর এলাকায় ছোটখাটো বেআইনি নির্মাণ হলে তা আইনসম্মত উপায়ে বৈধ করার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। কিন্তু আইনের ছোট্ট সেই ফাঁক গলে ঘটে যাচ্ছে বড় বড় অপরাধ। যার জেরেই শহরের আনাচে কানাচে গজিয়ে উঠেছে গার্ডেনরিচের নির্মীয়মাণ বহুতলের মতো বাড়ি।
এদিনের বৈঠকের পর 'এওপি' বা 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর'ও তৈরি করে ফেলেছে প্রশাসন। যেখানে পুরসভার তরফে এই ধরনের ঘটনাকে ‘মেজর ভায়োলেশন’ বা গুরুতর অপরাধ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
নতুন এসওপি অনুযায়ী অনুমোদন প্ল্যানের থেকে বিল্ডিং এক দু’ ইঞ্চি অতিরিক্ত বাড়লে তাকে ‘ছোট অপরাধ’ বলে গণ্য করা হবে। শুধুমাত্র সেক্ষেত্রে ৪০০(১) ধারায় বেআইনি অংশ ভাঙার আগে শুনানি হবে। কিন্তু গোটা একটা তলা কিম্বা তারও বেশি বেআইনি হলে আর শুনানি নয়। ৪০০ (৮) ধারা প্রয়োগ করে পুর কমিশনার সরাসরি বিল্ডিং গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। শুধু তাই নয়, অতীতে দেখা গিয়েছে বেআইনি বিল্ডিং তৈরি করার পরে ধরা পড়লে প্রোমোটারের তেমন শাস্তি হয়নি। সেই আইনকে আরও কড়া করতে চাইছে পুরসভা। ঠিক হয়েছে, নতুন আইন তৈরি করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বিধানসভায়।
একইসঙ্গে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা পুরসভার তরফে অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। সেই অ্যাপে নির্দিষ্ট করে যাবতীয় নির্দেশিকা এবং নীতির কথা উল্লেখ থাকবে এই বিষয়ে। যে সকল নির্মাণে সমস্যা রয়েছে সেগুলিতে কাজ হতে থাকলে বা হয়ে গেলে 'অ্যাকশন টেকেন' রিপোর্টও দেওয়া হবে। অর্থাৎ বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার যাবতীয় তথ্য সেই অ্যাপে উল্লেখ করা হবে।